‘সার্বভৌম অধিকারে নাক গলাবেন না!’ দ্য হেগ-এর সিন্ধু চুক্তি সংক্রান্ত রায় সপাটে খারিজ ভারতের

সিন্ধু জলচুক্তি এবং জম্মু-কাশ্মীরের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ-স্থিত ‘পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন’ (PCA)-এর রায় সরাসরি খারিজ করে দিল ভারত সরকার। সোমবার নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এক অত্যন্ত কড়া বিবৃতি জারি করে এই ট্রাইব্যুনালকে ‘অবৈধ’, ‘এক্তিয়ারবহির্ভূত’ এবং ‘আইনসম্মত নয়’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল ও বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে ভারতের তীব্র আপত্তি
আন্তর্জাতিক ওই আদালতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, ভারতের স্থগিত রাখা ‘সিন্ধু জলচুক্তি’ এখনও কার্যকর রয়েছে এবং জম্মু-কাশ্মীরের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ সীমিত করা উচিত। কিন্তু ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তির স্পষ্ট শর্তাবলী লঙ্ঘন করে বিশ্বব্যাঙ্ক সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল। ভারত শুরু থেকেই এই তথাকথিত আদালতের শুনানিতে অংশ নেয়নি এবং এর কোনো পদক্ষেপকেই স্বীকৃতি দেয়নি।
ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কোনো প্রভাব পড়বে না
বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে জানানো হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থারই ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার বিন্দুমাত্র আইনি অধিকার নেই। দেশের ভূখণ্ডে, বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীরে গৃহীত কোনো উন্নয়নমূলক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর এই কথিত রায়ের বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়বে না।
সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের ক্রমাগত মদত দেওয়ার কারণে ভারত এর আগে যে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার কঠোর ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা আগের মতোই যথারীতি বলবৎ থাকছে। আন্তর্জাতিক চাপ বা কোনো সংস্থার হস্তক্ষেপে যে নয়াদিল্লি একচুলও নড়ছে না, আজকের এই পদক্ষেপে তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।