ফেসবুক লাইভে অঝোরে কান্না, থানার ওসিকে ফোন করে চরম পদক্ষেপ! রাঁচিতে আদিবাসী নেত্রীর রহস্যমৃত্যুতে উত্তাল রাজ্য

ফেসবুক লাইভে অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়া, পুলিশ আধিকারিককে ফোন করে আত্মহত্যার কথা জানানো— আর তারপরেই উদ্ধার হল তরুণী আদিবাসী নেত্রীর নিথর দেহ। ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে আদিবাসী কর্মী ও যুব নেত্রী নিশা কুমারী ভগতের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে গোটা রাজ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান এটি আত্মহত্যার ঘটনা হলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র— এমনটাই দাবি করেছেন নিশার পরিবার ও রাজনৈতিক নেতারা।

মৃত নিশা কুমারী ভগৎ গুমলা জেলার ওরাঁও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মেয়ে ছিলেন। আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা, জমি সংরক্ষণ এবং ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মুখ হিসেবে স্থানীয় মহলে তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি ছিল। এমনকি, ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গুমলা আসন থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন।

ফেসবুক লাইভ ও শেষ মুহূর্তের নাটক: শুক্রবার দুপুরে রাঁচির পিথোরিয়া থানা এলাকার নিজ বাড়ি থেকেই ফেসবুকে লাইভ শুরু করেন নিশা। প্রায় ১০-১১ মিনিটের ওই ভিডিওয় তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা যায়, রাজ্য সরকার এবং প্রভাবশালী জমি দালালদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণে তাঁকে লাগাতার হেনস্থা ও মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, লাইভ চলাকালীনই তিনি পিথোরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (OC) ফোন করে জানান যে তিনি চরম পদক্ষেপ করতে চলেছেন। এরপরই হঠাৎ লাইভ ভিডিও বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিশাকে উদ্ধার করে রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (রিমস) হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট বা আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট চিঠি উদ্ধার হয়নি। তবে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পরিবারের অভিযোগ ও সিবিআই তদন্তের দাবি: নিশার এই মর্মান্তিক পরিণতির জন্য তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবার। নিশার বাবা হান্ডু ভগৎ এবং মা দেবিকা ভগৎ এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে সিবিআই (CBI) তদন্তের জোরালো দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এই ঘটনার নেপথ্যে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যুক্ত থাকায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।

রাজনৈতিক মহলে শোরগোল: এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই তরজা শুরু হয়ে গেছে। বিজেপি নেতারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পদত্যাগ ও সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁদের দাবি, ধর্মান্তর ও জবরদখলের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্যই নিশাকে ঠান্ডা মাথায় চাপে ফেলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শাসক দল জেএমএম (JMM)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ঘটনার তদন্ত করছে।

একজন লড়াকু তরুণী আদিবাসী নেত্রীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিশার সতীর্থ ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর লড়াইয়ের দিনগুলোকে স্মরণ করে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।