“ইতালিতে তৈরি চশমা দিয়ে দেখছেন সনিয়া!” ইন্দিরা গান্ধীর ইমার্জেন্সি থেকে রাজীবের বিতর্কিত বয়ান টানতেই তোপ বিজেপির

আগামী ১০ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত হতে চলেছে কংগ্রেসের প্রবীণ নেত্রী সনিয়া গান্ধীর বহুল চর্চিত স্মৃতিকথা বা আত্মজীবনী ‘Belonging: A Journey Of Love’। তবে বইটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের আগেই দেশের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ১৯৭৫ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জারি করা জরুরি অবস্থা (ইমার্জেন্সি) নিয়ে সনিয়ার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বাক্‌যুদ্ধ।

শনিবার ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জাতীয় মুখপাত্র প্রধানত সনিয়ার মন্তব্যকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তাঁর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। বিজেপির স্পষ্ট দাবি, “ইতালিতে তৈরি চশমা পরে” দেখে ইতিহাস বদলানো যাবে না। সনিয়া গান্ধী জনসংযোগ (PR) বা ভাবমূর্তি উদ্ধারের যতই চেষ্টা করুন না কেন, ঐতিহাসিক সত্য গোপন করা সম্ভব নয়।

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) বিজেপি নেতা চালি ভান্ডারি লেখেন, “সনিয়া গান্ধী যেভাবে জরুরি অবস্থাকে ন্যায্য বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি ইন্দিরা গান্ধীকে একজন ভুক্তভোগী (ভিকটিম) হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাঁর এই জনসংযোগ বা পিআর প্রচেষ্টা কখনোই সত্যিটাকে আড়াল করতে পারবে না। আসল সত্য এটাই যে, ইন্দিরা গান্ধীই দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করেছিলেন।”

এখানেই না থেমে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে রাজীব গান্ধীর অতীত মন্তব্যকেও টেনে এনেছেন বিজেপি মুখপাত্র। তিনি আরও লেখেন, “পরবর্তীতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীও তাঁর বিখ্যাত ও বিতর্কিত মন্তব্য— ‘একটা বড় গাছ পড়লে তো মাটি কাঁপবেই’—এর মাধ্যমে ১৯৮৪ সালে হাজার হাজার শিখ হত্যার ঘটনাকে ন্যায্যতা দিয়েছিলেন। তিনি আসলে তাঁর মায়ের সেই দমনমূলক উত্তরাধিকারকেই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। গান্ধী-বঢরা পরিবারের এই ইতিহাসকে দেশের মানুষ ক্ষমা করেনি এবং ভবিষ্যতেও কখনো ক্ষমা করবে না।”

উল্লেখ্য, সনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী প্রকাশের মুখে ইন্দিরা গান্ধীর শাসনকাল ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের তুলনা সংক্রান্ত মন্তব্য সামনে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, নিজেদের অতীত ভুল ঢাকতেই এখন অন্যের ওপর দায় চাপানোর নীতি নিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। ১০ নভেম্বর বই মুক্তির পর এই বিতর্ক কোন রূপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।