ফের বিপর্যয়ের মুখে উত্তরাখণ্ড! দেরাদুন, নৈনিতাল-সহ একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি, লাল সতর্কতা জারি

বর্ষা বিদায়ের আবহে আবারও প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়েছে উত্তরাখণ্ড। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া একটানা ভারী বৃষ্টি এবং মঙ্গলবার ভোররাতে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানের কারণে দেরাদুন-সহ রাজ্যের একাধিক জেলা বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দেরাদুনে ১৩ জন, নৈনিতালে একজন এবং উধম সিং নগরে একজন রয়েছেন। দেরাদুনে মৃত ১৩ জনের মধ্যে আটজনই উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন জায়গায় হড়পা বানের আশঙ্কা রয়েছে। আজ রাজ্য জুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, তবে কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দেরাদুনে বুধবারও ভারী বৃষ্টির জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেরাদুন, নৈনিতাল, চামোলি, পাউরি, পিথোরাগড়, রুদ্রপ্রয়াগ এবং উত্তরকাশিতে চরম দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোররাতের ভয়াবহ দুর্যোগে দেরাদুনে বহু বাড়িঘর, দোকানপাট এবং গাড়ি ভেসে গেছে। মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে টন নদীতে একটি ট্রাক্টর তলিয়ে যায়, যাতে প্রায় দশজন শ্রমিক ছিলেন। স্থানীয়দের অনুমান, তাঁদের মধ্যে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
দুর্গতদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। জেলাশাসক সাভিন বংশল ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, পিডব্লিউডি-সহ বিভিন্ন দফতরের কর্মীরা বুলডোজার নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছেন। ভারী বৃষ্টির কারণে দেরাদুনের সব স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানিয়েছেন যে, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে নেমে পড়েছে।
এই বছরের বর্ষায় উত্তরাখণ্ডের একাধিক এলাকা ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, ১২৮ জন আহত এবং ৯৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এর আগে, গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তরাখণ্ড সফরে এসে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ পর্যালোচনা করেন এবং রাজ্যের জন্য ১২০০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন।