“সমস্যা এড়াতে বিমানে চড়বেন না!” সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যে ফুঁসে উঠে সিজেপি নেতার বিস্ফোরক দাবি— “এই ব্যবস্থা আমাদের আরশোলা বানিয়েছে”

উৎসবের মরশুমে আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়া বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক পর্যবেক্ষণ ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। আদালতের সেই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে দেশের বিচারব্যবস্থা ও সামগ্রিক পরিকাঠামোকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতা সৌরভ দাস। তাঁর ব্যঙ্গাত্মক আক্রমণ— সমস্যার সমাধান না করে যদি মানুষকে সেই সমস্যা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে এই সমাজ ও ব্যবস্থাই সাধারণ মানুষকে ‘আরশোলা’য় পরিণত করেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল আদালতে? মামলার সূত্রপাত: আসন্ন দীপাবলি ও উৎসবের মরশুমে দেশের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানের টিকিটের দাম স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ থেকে ৭ গুণ, অর্থাৎ ক্ষেত্রবিশেষে ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থরক্ষা এবং বিমান ভাড়ার ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন এক আবেদনকারী।

গত সোমবার (২ নভেম্বর) বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি অপরেশ কুমার সিংয়ের বেঞ্চে মামলাটির জরুরি শুনানির আর্জি জানানো হয়। আবেদনকারীর আইনজীবী যুক্তি দেন যে, এই ধরনের আকাশছোঁয়া ভাড়া বৃদ্ধি সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। কিন্তু শীর্ষ আদালত মামলাটির জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দেয়। সেই সময় আদালতের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “বিমানে যাতায়াত না করলেই তো হয়!”

“এই ব্যবস্থাই আমাদের আরশোলা বানিয়েছে,” তোপ সৌরভ দাসের: সুপ্রিমের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন CJP নেতা সৌরভ দাস। একের পর এক নাগরিক ও সামাজিক সমস্যার উদাহরণ টেনে তিনি লেখেন:

  • বায়ুদূষণ বাড়লে শ্বাস নেবেন না!

  • রাস্তায় বড় গর্ত থাকলে হাঁটবেন না!

  • পেট্রোলের দাম আকাশছোঁয়া হলে গাড়ি চালাবেন না!

  • প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে পরীক্ষাই দেবেন না!

  • আর বেকারত্বের জ্বালা থাকলে চাকরির খোঁজই করবেন না!

তীব্র কটাক্ষ করে সৌরভের দাবি, সমস্যার মোকাবিলা বা তার স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজার পরিবর্তে রাষ্ট্র যদি প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে সমস্যা সহ্য করে চুপ থাকার ফতেওয়া দেয়, তবে জেনেশুনে এই ধরনের ব্যবস্থাই মানুষকে ‘আরশোলা’য় পরিণত করছে।

পুরনো প্রেক্ষাপট ও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’: উল্লেখ্য, এই ‘আরশোলা’ বা ককরোচ প্রসঙ্গটি নতুন নয়। এর আগে গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টের একটি শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কিছু বেকার আইনজীবী এবং সোশাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সক্রিয় ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে ‘আরশোলা’র উপমা ব্যবহার করেছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন যে তাঁর সেই মন্তব্য দেশের সামগ্রিক যুবসমাজের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং ভুয়া ডিগ্রির সাহায্যে পেশায় প্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যেই ওই পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।

তবে সেই সময়েই এই শব্দটিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। এরপর থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব থেকে শুরু করে নানা জনস্বার্থের ইস্যুতে নিয়মিত সোচ্চার হয়েছে এই দল। এবার বিমান ভাড়া বৃদ্ধি সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সৌরভ দাসের এই নতুন আক্রমণ ফের একবার রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।