ফিজিওথেরাপিস্টরা আর ‘ডাক্তার’ নন! কেন্দ্রের নয়া নির্দেশ ঘিরে তুমুল বিতর্ক

ফিজিওথেরাপিস্টদের নামের আগে ‘ডাঃ’ (Dr) উপাধি ব্যবহার করা যাবে না— কেন্দ্রের এই আকস্মিক নির্দেশিকা ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের ঠিক একদিন পরেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস (DGHS) এই নির্দেশ জারি করেছে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (IMA) এবং অন্যান্য মেডিকেল সংস্থার তীব্র চাপ। তাদের দাবি, ফিজিওথেরাপিস্টরা ‘ডাঃ’ উপাধি ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, কারণ তারা রোগ নির্ণয় বা প্রাথমিক চিকিৎসা করার জন্য প্রশিক্ষিত নন।

বিভ্রান্তির অভিযোগ: DGHS-এর চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিজিওথেরাপিস্টরা নামের আগে ‘ডাঃ’ ব্যবহার করলে রোগীরা তাঁদেরকে চিকিৎসা চিকিৎসক ভেবে ভুল করতে পারেন। যেহেতু তাঁদের রোগ নির্ণয়ের ক্ষমতা নেই, ভুল থেরাপির কারণে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।

আইনের লঙ্ঘন: DGHS-এর ড. সুনীতা শর্মা তার চিঠিতে উল্লেখ করেন যে ফিজিওথেরাপিস্টদের ‘ডাঃ’ উপাধি ব্যবহার করা ভারতীয় মেডিকেল ডিগ্রি আইন, ১৯১৬-এর লঙ্ঘন।

মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের আপত্তি: ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (IAPMR) সহ বিভিন্ন মেডিকেল সংস্থা এই বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছিল। তারা অভিযোগ করে, সম্প্রতি প্রকাশিত ‘কম্পিটেন্সি বেসড কারিকুলাম ফর ফিজিওথেরাপি’ সিলেবাস থেকেই এই বিভ্রান্তির সূত্রপাত।

এই বছরের ২৩শে এপ্রিল, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ন্যাশনাল কমিশন ফর অ্যালাইড অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রফেশনস (NCAHP) ফিজিওথেরাপির স্বীকৃত পাঠ্যক্রম প্রকাশ করে, যেখানে ফিজিওথেরাপিস্টদের ‘ডাঃ’ উপাধি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

আশ্চর্যজনকভাবে, বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ফিজিওথেরাপিস্টদের কাজের প্রশংসা করে তাঁদেরকে প্রবীণ নাগরিকদের সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরপরই কেন্দ্রীয় সরকারের বিপরীতমুখী সিদ্ধান্তটি এই পেশার সাথে যুক্তদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।

DGHS ফিজিওথেরাপির গ্র্যাজুয়েট ও পোস্টগ্র্যাজুয়েটদের জন্য একটি সম্মানজনক কিন্তু বিভ্রান্তিহীন বিকল্প উপাধি খোঁজার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে রোগী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো ভুল ধারণা তৈরি না হয়।