ফর্ম ফিলাপের ছোট্ট ভুলেই বিপাকে করদাতা! আয়কর দপ্তরের কড়া নোটিশ খারিজ করে বিরাট জয় পেলেন শ্রী গোলে!

বেতনভোগী কর্মচারীদের জন্য আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিল করার সময় সামান্য একটি টাইপিং বা ডেটা-এন্ট্রি ভুল কতটা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত প্রমাণ সম্প্রতি মুম্বাইয়ে সামনে এসেছে। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও সঠিক নথিপত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে করদাতাদের জন্য এক ঐতিহাসিক স্বস্তির রায় দিয়েছে মুম্বাইয়ের আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনাল বা আইটিএটি (ITAT)। ট্রাইব্যুনাল পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, শুধুমাত্র আইটিআর-এ ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইপিএফ (EPF) পেমেন্টের সঙ্গে অতিরিক্ত ৯.৬ লক্ষ টাকা করের বোঝা চাপানো কোনোভাবেই আইনসম্মত বা সঠিক নয়। বিশেষ করে যখন করদাতার পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে যে তিনি প্রকৃতপক্ষে ইপিএফও (EPFO) থেকে কোনো তহবিল উত্তোলন করেননি বা তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই ধরনের কোনো সমপরিমাণ অর্থ জমা হয়নি।
এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির সূত্রপাত হয়েছিল যখন মুম্বাইয়ের বেলাপুর রোডের বাসিন্দা তথা পেশায় প্ল্যান্ট ম্যানেজার শ্রী গোলে তাঁর ২০২২ সালের ২৫শে জুলাই আইটিআর দাখিল করেন। তিনি মোট ২৮.২৫ লক্ষ টাকা বেতন আয় ঘোষণা করলেও তাঁর রিটার্ন প্রস্তুতকারী সহকারীর একটি কেরানিগত ও যান্ত্রিক ভুলের কারণে, ভুলবশত ১৯২৫ সালের প্রভিডেন্ট ফান্ড আইনের ধারা ১০(১১)-এর অধীনে ৯.৬ লক্ষ টাকাকে করমুক্ত আয় হিসেবে দেখান। যেহেতু তিনি গুজরাটের একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তে ইপিএফও-এর আওতাভুক্ত ছিলেন, তাই এই ধারাটি তাঁর ক্ষেত্রে মোটেও প্রযোজ্য ছিল না। অথচ এই ভুল এন্ট্রির সুযোগ নিয়ে আয়কর মূল্যায়নকারী কর্মকর্তা (AO) এবং আপিল কমিশনার (CIT A) করদাতাকে কোনো সন্তোষজনক প্রমাণ দিতে না পারার অজুহাতে তাঁর করের দায়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ৯.৬ লক্ষ টাকা যোগ করে দেন এবং তাঁকে মোটা অংকের কর নোটিশ পাঠান।
অবশেষে অভিজ্ঞ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট তরুণ গুপ্ত ও সুরেশ সুরানার আইনি সহায়তায় শ্রী গোলে মুম্বাই আইটিএটি-র দ্বারস্থ হন এবং ১৯ জুন, ২০১৯-এর পরিবর্তে সঠিক আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ২০২৬ সালের জুন মাসে মামলাটিতে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নেন। শুনানির সময় করদাতার পক্ষে ফর্ম ১৬, ফর্ম ২৬এএস, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং প্রাসঙ্গিক আর্থিক বছরের ইপিএফও অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্টের মতো নিখুঁত নথি পেশ করা হয়, যা প্রমাণ করে যে তহবিল থেকে কোনো টাকাই তোলা হয়নি। ট্রাইব্যুনাল তাঁর রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, আয়কর বিভাগ করদাতার বিরুদ্ধে অর্থ প্রাপ্তির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দেখাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। একবার করদাতা যখন নির্ভরযোগ্য নথি ও হলফনামার মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তিনি এই ধরনের কোনো অর্থ পাননি, তখন নিছক অনুমান বা সন্দেহের বশে সেই হলফনামা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলস্বরূপ, আইটিএটি মুম্বাই আয়কর দপ্তরের চাপানো ওই ৯.৬০ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত কর সংযোজন সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করে তা বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে।