প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে সভার সবুজ সঙ্কেত! মাত্র ২ হাজার সমর্থক নিয়ে কবে ও কোথায় সভা করবেন মমতা?

কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে অবশেষে শর্তসাপেক্ষে রাজনৈতিক কর্মসূচি করার অনুমতি পেলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুগলির মাহেশে আগামীকালের নির্ধারিত কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই রায়কে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

মূলত, কালিয়াঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে আগামী শুক্রবার হুগলির মাহেশে জিটি রোড ধরে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল করার এবং তারপরে জনসভা করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের অনুমতি না মেলায় বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। এ দিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, জিটি রোড অত্যন্ত একটি সরু রাস্তা। তাই ব্যস্ততম ওই সড়কে মিছিল করার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত স্থানে সভা করার আর্জি আদালতের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিযুক্ত বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) মাহেশের ঐতিহাসিক জগন্নাথদেবের স্নান পিড়ি ময়দানেই এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই কর্মসূচি পালনের জন্য বেশ কিছু কড়া শর্ত ও বিধি নিষেধ বেঁধে দিয়েছে আদালত। সভার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ১টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত। পাশাপাশি, জনসভায় সর্বোচ্চ ২ হাজার সমর্থক উপস্থিত থাকতে পারবেন বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। সভার মঞ্চ বা সমাবেশ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে পারে, এমন কোনো প্ররোচনামূলক বা উস্কানিমূলক মন্তব্য করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই যাতে এলাকায় শান্তিভঙ্গ বা অশান্তির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে চরম সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আজ রাত ১০টার মধ্যে ১০ জন নির্দিষ্ট ভলান্টিয়ারের নাম এবং তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর স্থানীয় থানায় জমা দিতে হবে। আদালত জানিয়েছে, মিটিং চলাকালীন বা তার জেরে যদি কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবে ওই ভলান্টিয়ার্সরাই ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন। সভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ময়দান ও তার আশপাশের এলাকা সম্পূর্ণ ফাঁকা করে দিতে হবে। বিচারপতির এই কড়া নির্দেশিকা মেনে শেষ পর্যন্ত এই হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক সভা সফলভাবে সম্পন্ন হয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।