প্রশাসনের দিকে না তাকিয়ে নিজেরাই ধরলেন হাল, পশ্চিম মেদিনীপুরের শিলাবতী নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করলেন গ্রামবাসীরা!

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর প্রশাসনের সাহায্যের অপেক্ষায় না থেকে, এবার নিজেদের উদ্যোগেই সমস্যার সমাধান করলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা দুই নম্বর ব্লকের ঘোষকিরা গ্রামের মানুষজন। বন্যার কারণে শিলাবতী নদীর ওপরের অস্থায়ী কাঠের সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন এলাকার ১০ থেকে ১২টি গ্রামের বাসিন্দারা।
সমস্যা ও উদ্যোগ
সমস্যা: বন্যার জেরে শিলাবতী নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ঘোষকিরা গ্রামের ওপর থাকা অস্থায়ী কাঠের সেতুটি ভেঙে যায়। এর ফলে ঘোষকিরা, শীর্ষা, খুড়সি, ধর্মপোতা, কল্লা সহ একাধিক গ্রামের মানুষের যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে মুমূর্ষু রোগীদেরও নদীতে নৌকায় করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছিল।
গ্রামবাসীদের উদ্যোগ: এই সমস্যা দূর করতে গ্রামবাসীরা আর অপেক্ষা না করে বাঁশ ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করে নিজেদের উদ্যোগে শিলাবতী নদীর ওপর একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে ফেলেন।
প্রশাসনের ভূমিকা ও দীর্ঘদিনের দাবি
গ্রামবাসীরা নিজেরাই সাঁকো তৈরি করায় প্রত্যেকেই তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। চন্দ্রকোনা দুই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অলোক ঘোষ জানান, বন্যার কারণে ব্লকের বিভিন্ন এলাকার অস্থায়ী সাঁকোগুলি ভেঙে গিয়েছিল এবং কিছু জায়গায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা মেরামত করা হয়েছে।
তবে এই অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরি হলেও এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রধান দাবি হলো নদীর ওপর একটি কংক্রিটের ব্রিজ তৈরি করা। ঘোষকিরা এলাকার মানুষ স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর গ্রামে মাটির রাস্তা থেকে ঢালাই রাস্তা পেলেও, নদীর ওপর যোগাযোগের স্থায়ী ব্যবস্থার জন্য এখনও অপেক্ষায় রয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন, শিলাবতী নদীর ওপর ব্রিজের জন্য ঘাটাল মাস্টারপ্লানে আবেদন করা হয়েছে।