প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রথম দ্বিপাক্ষিক জর্ডান সফরকে “সত্যিই ঐতিহাসিক” বলে বর্ণনা করেছেন জর্ডানে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত মণীশ চৌহান। তিনি এই সফরের মাত্রা ও পরিধি অভূতপূর্ব বলে জোর দিয়েছেন, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
শনিবার মধ্যপ্রাচ্য সফরের আগে এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত বলেন, “ভারত ও জর্ডানের মধ্যে খুব উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পুরনো সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই আসন্ন সফরটি সত্যিই একটি ঐতিহাসিক সফর। কারণ এই মাপের এবং পরিধির কিছু আগে কখনও ঘটেনি। তাই দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতিতে এর প্রভাব সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।”
আগমনের অপেক্ষায় প্রবাসী ভারতীয়রা
রাষ্ট্রদূত চৌহান জর্ডানে বসবাসকারী প্রায় ১৮,০০০ প্রবাসী ভারতীয়দের উন্মাদনার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, এই সম্প্রদায়টি “খুব ভালোভাবে মিশে গেছে, সব ক্ষেত্রে সক্রিয় এবং ভালো কাজ করেছে।” তিনি যোগ করেন, তাঁরা অধীর আগ্রহে প্রধানমন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করছেন।
গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি
পররাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৫ ডিসেম্বর থেকে জর্ডানে তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর শুরু করবেন, যা চলবে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সফরে তিনি জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে দেখা করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমস্ত দিক পর্যালোচনা করবেন এবং আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করবেন। আশা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং রাজা ভারত-জর্ডান ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানেও ভাষণ দেবেন।
শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি
বর্তমানে ভারত জর্ডানের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২.৮ বিলিয়ন ডলার। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের শিল্পাঞ্চলে প্রায় ১৫টি সরকারি সংস্থা রয়েছে, যাদের সম্মিলিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
তিন দেশ সফরের অংশ হিসেবে জর্ডানের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী ১৬ থেকে ১৭ ডিসেম্বর ইথিওপিয়া এবং ১৭ থেকে ১৮ ডিসেম্বর ওমান সফর করবেন।