প্রদীপের নিচেই অন্ধকার! মালদায় ‘সিনার্জি’র ঢাকঢোল বাজলেও ফুড পার্কে তালা ঝুলছে শিল্পের ভাগ্যে

বছর বছর ঘটা করে হয় বাণিজ্য সম্মেলন, যার গালভরা নাম ‘সিনার্জি’। গৌড়বঙ্গের তিন জেলার শিল্পপতিদের নিয়ে চলে তুমুল আলোচনা, আসে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব। কিন্তু বাস্তবে কি মালদার শিল্পচিত্রে কোনও বদল আসছে? মালদা শহরের ফুড পার্কের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে এক ভিন্ন গল্প। যেখানে সরকারের সদিচ্ছা আর প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।

আবেদন ১৫ জনের, বরাদ্দ শূন্য! মালদা শহরের প্রান্তে অবস্থিত সরকারি ফুড পার্কে একরের পর একর জমি পড়ে থাকলেও সেখানে নতুন কোনও চিমনি জ্বলেনি গত কয়েক বছরে। তথ্য বলছে, ২০২২ সাল থেকে অন্তত ১৫ জন শিল্পোদ্যোগী এখানে কারখানা গড়ার জন্য জমি চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ তিন বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি ছাড়পত্র। ফলে বিনিয়োগের বদলে সেখানে এখন শুধুই আগাছা আর জঙ্গলের রাজত্ব।

আটকে ১০০ কোটির বিনিয়োগ, ৫০০ মানুষের অন্নসংস্থান মালদার আম ও লিচু প্রক্রিয়াকরণের জন্য ২০০৫ সালে প্রায় ৩৮ একর জমি নিয়ে তৈরি হয়েছিল এই ফুড পার্ক। বর্তমানে সেখানে ১০টি প্লট ও দুটি বিশাল শেড খালি পড়ে আছে। বণিক মহলের দাবি, এই জমিগুলি বিলি করা হলে জেলায় অন্তত ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসত এবং সরাসরি কর্মসংস্থান হতো অন্তত ৫০০ বেকার যুবক-যুবতীর।

শহরের এক উদ্যোক্তা দেবাশিস সাহা আক্ষেপের সুরে বলেন, “দু’কোটি টাকা ব্যয় করে অত্যাধুনিক বেকারি গড়তে চাই। তিন বছর আগে আবেদন করেও জমি পাইনি। আর কতদিন অপেক্ষা করব জানি না, এবার হয়তো অন্য কোথাও চলে যেতে হবে।”

প্রশাসনের নীরবতা ও বণিক মহলের ক্ষোভ মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা সাফ জানিয়েছেন, প্রতি বছর সিনার্জি হলেও জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সহযোগিতা মিলছে না। মুখ্যমন্ত্রী জেলায় জেলায় শিল্প গড়ার কথা বললেও বাস্তবের চিত্রটা মালদায় হতাশাজনক। সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এদিকে, এই অচলাবস্থা নিয়ে জেলাশাসক প্রীতি গোয়েলের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বারবার ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি। তবে ফুড পার্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক চিন্ময় ঘোষের দাবি, আবেদনপত্রগুলি রাজ্যে পাঠানো হয়েছে এবং জমি বিলির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হতে পারে।

প্রশ্ন উঠছে জনমনে: সিনার্জি কি তবে কেবলই ভোট পাওয়ার কৌশল? নাকি বিনিয়োগের এই টালবাহানার নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও প্রশাসনিক জটিলতা? উত্তর আজও অজানা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy