প্রথমে নানা পাটেকর, এবার বিপি সিং! পরপর দুই কাছের মানুষের মৃত্যুতে শোকে পাথর ‘সিআইডি’-র এসিপি প্রদ্যুমন

ভারতীয় টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির স্বর্ণযুগের অবসান ঘটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন কালজয়ী ধারাবাহিক ‘সিআইডি’ (CID) এবং ‘আহাত’-এর দূরদর্শী প্রযোজক তথা পরিচালক ব্রিজেন্দ্র পাল সিং (বি.পি. সিং)। গত ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে ৭৭ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোকগমন করেন তিনি। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে গোটা বিনোদন জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সবথেকে বেশি ভেঙে পড়েছেন ‘সিআইডি’র জনপ্রিয় চরিত্র ‘এসিপি প্রদ্যুমন’-এর অমর রূপায়ক, প্রবীণ অভিনেতা শিবাজি সাতাম। কিছুদিন আগেই দীর্ঘদিনের বন্ধু নানা পাটেকরকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই, বিপি সিংয়ের মৃত্যু তাঁর কাছে এক চরম বজ্রাঘাত হয়ে এসেছে।

“ক্যামেরার সামনে কাজ করার সবটাই তাঁর অবদান”

বিপি সিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক দশকের পেশাদার ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা স্মরণ করতে গিয়ে গলা ধরে আসে শিবাজি সাতামের। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,

“আজ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায়ের অবসান ঘটল। তিনি একজন অসাধারণ মানুষ এবং আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিলেন। ক্যামেরার সামনে অভিনয় সম্পর্কে আমি যা কিছু শিখেছি, তার সবটাই তাঁর অবদান। আমি মূলত থিয়েটারের মানুষ ছিলাম, তাই মঞ্চকৌশল জানতাম; কিন্তু ক্যামেরার সামনে কীভাবে দৃশ্যগুলোকে জমকালো ও প্রভাবশালী করে তুলতে হয়, তা তিনিই শিখিয়েছিলেন।”

“ওঁকে পদ্মশ্রী দেওয়া উচিত ছিল”

ভারতীয় টেলিভিশনে বিপি সিংয়ের অমূল্য অবদানের কথা তুলে ধরে শিবাজি সাতাম আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, সরকারের উচিত ছিল দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ দিয়ে তাঁকে ভূষিত করা। তাঁর মতে, বন্ধুত্বের খাতিরে নানা মতপার্থক্য থাকলেও বিপি সিং প্রতি পদক্ষেপে তাঁর ছায়াসঙ্গী হয়ে থেকেছেন। তবে পুরস্কার বা সম্মানের জন্য তিনি কখনও কাজ করেননি, দর্শকের ভালোবাসাই ছিল তাঁর কাছে সবথেকে বড় পাওনা।

প্রথমে নানা পাটেকরের প্রয়াণ, একে একে ঘনিষ্টদের হারানো

বিপি সিংয়ের মৃত্যুর ঠিক আগেই ৪০ বছরের বন্ধু নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন শিবাজি সাতাম। কলেজ জীবন থেকে শুরু হওয়া সেই বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, হিন্দি সিনেমায় তাঁর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব নানা পাটেকরেরই। ‘যশোবন্ত’ ছবিতে ইন্সপেক্টরের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নানা যখন তাঁকে জোর করেছিলেন, তখন তিনি প্রথমে রাজি হননি। কিন্তু নানার জেদ ও অনুরোধেই তিনি সেই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

১৯৯৮ সাল থেকে শুরু হওয়া ‘সিআইডি’ ধারাবাহিকটি টানা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় দর্শকদের মন জয় করে রেখেছিল। বিপি সিংয়ের নিখুঁত চিত্রনাট্য, সাসপেন্স ও অনন্য পরিচালনার মাধ্যমেই তা ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল। আজ তাঁর প্রয়াণে কেবল একটি যুগেরই নয়, এক জাদুকরি বন্ধুত্বেরও পূর্ণচ্ছেদ ঘটল।

Pratik Saha
  • Pratik Saha