“প্রতি মাসে মিলবে ৩,০০০ টাকা”-জানুয়ারিতে শুরু ‘ভরসা’ স্কিম, রেডি রাখুন ৭টি নথি

রাজ্য তথা দেশের যুবসমাজের সবচেয়ে বড় চিন্তা হলো কর্মসংস্থান। তবে চাকরি পাওয়ার আগের এই কঠিন সময়ে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক ও যুবতীদের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে এবং তাঁদের ভরসা জোগাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো ‘ভরসা প্রকল্প’।
হুগলির এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২৩ নভেম্বর রাজ্য মন্ত্রিসভার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকেই ঐতিহাসিক এই ‘ভরসা’ স্কিমের চূড়ান্ত সরকারি অনুমোদন দেওয়া হবে। আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে এই স্কিম।
কী এই ‘ভরসা’ প্রকল্প? কারা পাবেন এই আর্থিক সাহায্য?
যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনা শেষ করেও চাকরির সন্ধান করছেন এবং সরকারের অন্য কোনও ভাতা বা সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না, মূলত তাঁদের আর্থিক সহমর্মিতা দিতেই এই পদক্ষেপ।
প্রকল্পের শর্তাবলী অনুযায়ী:
বয়সসীমা: ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা এই ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
যোগ্যতা অনুযায়ী ভাতার পরিমাণ:
গ্র্যাজুয়েট (স্নাতক) বেকাররা: প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন।
নন-গ্র্যাজুয়েট (স্নাতক নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন) বেকাররা: প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে পাবেন।
সময়সীমা: চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত রাজ্য সরকার যোগ্য আবেদনকারীদের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আবেদনের জন্য বাধ্যতামূলক যে ৭টি নথি (Documents)
ভরসা প্রকল্পে আবেদনের জন্য আবেদনকারীদের আগে থেকেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি গুছিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে: ১. আধার কার্ড ২. ভোটার কার্ড ৩. ভোটার তালিকায় নাম থাকা বাধ্যতামূলক ৪. ডিবিটি (DBT) লিঙ্ক করা বৈধ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ৫. জন্মের প্রমাণপত্র (Birth Certificate) ৬. শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট ও সার্টিফিকেট ৭. একটি সক্রিয় ও চালু মোবাইল নম্বর
কীভাবে ও কোথায় আবেদন করবেন?
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে অনলাইন এবং অফলাইন—দুই মাধ্যমেই আবেদনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে:
অনলাইন আবেদন: সরকারের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিত পোর্টাল বা ওয়েবসাইট চালু করা হবে। সেখানে ব্যক্তিগত তথ্য ও পরিবারের বিবরণ দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
অফলাইন আবেদন: যাঁরা অনলাইনে স্বাচ্ছন্দ্য নন, তাঁরা সরাসরি নিকটবর্তী বিডিও (BDO), এসডিও (SDO), পুরসভা (Municipality) বা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফিসে গিয়ে ফর্ম তুলে তা পূরণ করে জমা দিতে পারবেন।
প্রকল্পের বিস্তারিত নির্দেশিকা ও আবেদনের স্থান সম্পর্কিত চূড়ান্ত নোটিফিকেশন বা বিজ্ঞপ্তি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্য সরকারের তরফে প্রকাশ করা হবে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় রাজ্যের লক্ষ লক্ষ যুবসমাজ যে নতুন আশার আলো দেখছেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।