পৌরসভায় বড়সড় রদবদল! চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান সহ একাধিক পুরপ্রধানকে সরাল তৃণমূল, সামনে বিধানসভা ভোট!

লোকসভা নির্বাচনে পৌরসভা স্তরে আশানুরূপ ফল না আসার পর রাজ্যজুড়ে পৌরসভা স্তরে বড়সড় সাংগঠনিক পরিবর্তন আনল তৃণমূল কংগ্রেস। অভ্যন্তরীণ সমীক্ষার ভিত্তিতে পারফরম্যান্সের ঘাটতি ও জনসংযোগে ব্যর্থতার অভিযোগে একাধিক পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং পুরপ্রধান ও উপপুরপ্রধানদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শাসক দল চাইছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সাংগঠনিক দুর্বলতা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে।

কাটোয়া, কালনা সহ একাধিক জায়গায় রদবদল:

কাটোয়া পুরসভা: পুরপ্রধান সমীরকুমার সাহা এবং উপপুরপ্রধান লখিন্দর মণ্ডলকে সরানো হয়েছে। নতুন পুরপ্রধান হলেন কমলাকান্ত চক্রবর্তী এবং উপপুরপ্রধানের দায়িত্ব পাবেন ইউসুফা খাতুন।

কালনা পুরসভা: পুরপ্রধান আনন্দ দত্তের পরিবর্তে নতুন দায়িত্ব পেলেন রিনা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দাঁইহাট পুরসভা: পুরপ্রধান পদে সমর সাহা এসেছেন প্রদীপ রায়ের স্থলাভিষিক্ত হয়ে।

গুসকরা পুরসভা: উপপুরপ্রধান বেলি বেগমকে সরিয়ে সাধনা কোনারকে নতুন উপপ্রধান করা হয়েছে, যদিও পুরপ্রধান কুশল মুখোপাধ্যায় পদে বহাল আছেন।

উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি টাউন, ওল্ড মালদা, রায়গঞ্জ, মাল, কালিয়াগঞ্জ, ডালখোলা সহ একাধিক পুরসভাতেও রদবদল আনা হয়েছে। দক্ষিণেও হাওড়া পুরসভার পুর প্রশাসকের পদত্যাগের পর একাধিক কর্পোরেশন ও পৌরসভায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ভোটের ফল ও মানদণ্ড: গত লোকসভা ভোটে ৫১টি পৌরসভায় তৃণমূল এগিয়ে ছিল, যেখানে বিজেপির ঝুলিতে ৬৯টি এবং কংগ্রেসের ঝুলিতে ২টি পৌরসভা ছিল। গত কয়েকমাস ধরে শাসক দল পুরস্তরে নানা সমীক্ষা চালিয়েছে। সূত্রের খবর, জনসংযোগ, নাগরিক পরিষেবা প্রদানের ক্ষমতা এবং দলের অভ্যন্তরীণ ভূমিকা—এই তিনটি মাপকাঠিতে মূল্যায়নের ভিত্তিতে যোগ্যতম ব্যক্তিদের খোঁজ করছে শাসক দল। শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছেন, কোনো প্রকার হইচই না করে নীরবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। প্রয়োজনে পদাধিকারীদের স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিতে বলা হবে, নতুবা অপসারণ করা হবে। সামনেই বিধানসভা ভোট।