পেন্টাগনে চরম বিশৃঙ্খলা! প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদক্ষেপে রাতারাতি বদলে গেল আমেরিকার সামরিক নেতৃত্ব!

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে নেতৃত্বের গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কার্যকালে ২৫ জনেরও বেশি ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাকে অপসারণ করা হয়েছে এবং প্রায় ৪৫ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি স্থগিত রাখা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ছয় মাস পর এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর কৌশলগত চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। ওয়াশিংটন পোস্ট এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, হেগসেথের মেয়াদকালে জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান, নৌবাহিনীর শীর্ষ অ্যাডমিরাল এবং সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফসহ প্রায় প্রতিটি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের হয় বরখাস্ত করা হয়েছে অথবা তারা পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে জয়েন্ট চিফসে কেবল মেরিন কোর এবং স্পেস ফোর্সের প্রধানরাই বহাল রয়েছেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন গত সোমবার সেনা সচিব ড্যান ড্রিসকল পদত্যাগ করেন। তিনি উপরাষ্ট্রপতি জে.ডি. ভ্যান্সের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ইয়েল ল স্কুলের সহপাঠী ছিলেন। একসময় তাকে হেগসেথের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও বিবেচনা করা হতো। সামরিক নেতৃত্ব ও আধুনিকীকরণের রূপরেখা নিয়ে হেগসেথের সঙ্গে ড্রিসকলের দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য চলছিল। রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ইউক্রেন সম্পর্কিত সংবেদনশীল কূটনৈতিক দায়িত্বও দিয়েছিলেন। তার এই পদত্যাগ মার্কিন সামরিক কাঠামোকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এর আগে সেনাপ্রধান জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকেও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বর্তমান ইরান যুদ্ধের আবহে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে সিনেট অনুমোদিত কোনো স্থায়ী বেসামরিক বা সামরিক নেতৃত্ব অবশিষ্ট নেই।

এনবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এক ডজনেরও বেশি কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিক এবং নারী কর্মকর্তার পদোন্নতিও আটকে দেওয়া হয়েছে, যা সামরিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এমন এক সময়ে মাথাচাড়া দিয়েছে যখন ইরান যুদ্ধ মার্কিন সামরিক সক্ষমতার চরম পরীক্ষা নিচ্ছে। ইউরোপ, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং লাতিন আমেরিকার মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে সৈন্যদের আটকে রাখলে বিশ্বজুড়ে অন্যান্য কৌশলগত হুমকি মোকাবেলার মার্কিন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

নৌবাহিনীর মাত্র ২৫ শতাংশ ডেস্ট্রয়ার বর্তমানে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এমনকি প্রশান্ত মহাসাগরে মোতায়েন থাকা আমেরিকার একমাত্র বিশেষায়িত বিমানবাহী রণতরীটিকেও জরুরি ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার প্রায় ৬৫ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ইতিমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে, যা ন্যাটো মিত্রদের অস্ত্র সরবরাহ এবং চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

এদিকে, পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল মন্ত্রণালয়ের ভেতরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা থাকার দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন। তার মতে, জেনারেলদের মধ্যকার মতপার্থক্য স্বাভাবিক কার্যপ্রণালীরই একটি অংশ এবং গোপন সামরিক মূল্যায়ন ফাঁস করা সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। অস্ত্রের মজুদের ঘাটতির খবরকেও পেন্টাগন মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং তাদের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে বলে দাবি করেছে। তবে স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলে জানানো হয়েছে যে, গত ৫ই মে-র পর থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন বা প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়নি। এত সব সমালোচনা এবং বিতর্কের মাঝেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর পূর্ণ আস্থা বজায় রেখেছেন। তিনি কংগ্রেসের কাছে রেকর্ড ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের জোরালো আবেদন জানিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে সমস্ত বিতর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে পেন্টাগনে হেগসেথের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি পোক্ত হচ্ছে।