পেট্রোলকে পিছনে ফেলে দিল বিকল্প জ্বালানি! প্রতি ১০০টি গাড়ির মধ্যে বিক্রি কত জানেন? চোখ কপালে তুলবে এই পরিসংখ্যান!

ভারতের যাত্রীবাহী গাড়ির বাজারে ঘটে গেল এক বিরাট ও ঐতিহাসিক পালাবদল। দেশের অটোমোবাইল ইতিহাসে এই প্রথমবার পেট্রলচালিত গাড়িকে পেছনে ফেলে দিল বিকল্প জ্বালানির গাড়ি। গাড়ি ডিলারদের সংগঠন ফেডারেশন অব অটোমোবাইল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ‘ফাডা’-র (FADA) প্রকাশিত অগস্ট মাসের খুচরো বিক্রির পরিসংখ্যান প্রকাশ পেতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে দেশজুড়ে।
ফাডার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগস্টে দেশে বিক্রি হওয়া মোট যাত্রীবাহী গাড়ির প্রায় ৪১.৯৫ শতাংশই ছিল বিকল্প জ্বালানিনির্ভর—যার মধ্যে রয়েছে সিএনজি, হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV)। অন্যদিকে, পেট্রলচালিত গাড়ির অংশীদারি নেমে এসেছে ৪০.৮৫ শতাংশে। অর্থাৎ, সামান্য ব্যবধানে হলেও ভারতের বাজারে দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্য হারাল পেট্রল। ডিলারদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাত্র এক বছর আগেও পেট্রল ও বিকল্প জ্বালানির গাড়ির চাহিদার ব্যবধান ছিল প্রায় ১১ শতাংশ বিন্দু। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই সেই ব্যবধান মুছে গিয়ে ইতিহাস তৈরি করল বিকল্প জ্বালানি।
কোন গাড়ি কত বিক্রি হলো? সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, অগস্ট মাসে মোট বিক্রির মধ্যে—
সিএনজি (CNG): ২৫.২৮ শতাংশ
হাইব্রিড (Hybrid): ৯.০৪ শতাংশ
ইলেকট্রিক ভেহিকেল (EV): ৭.৬৩ শতাংশ
কেন বাড়ছে বিকল্প জ্বালানির চাহিদা? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু বাস্তব কারণ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় দেশজুড়ে পেট্রল ও ডিজেলের দাম চড়া। ফলে গাড়ি চালানোর মাসিক খরচ কমাতে ক্রেতারা এখন সিএনজি, হাইব্রিড বা বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো বা ‘ই২০’ জ্বালানি নীতি নিয়ে পুরনো গাড়ির মাইলেজ নিয়ে তৈরি হওয়া ধন্দও ক্রেতাদের বিকল্প জ্বালানির গাড়ি কিনতে উৎসাহিত করছে। সব মিলিয়ে, ভারতের অটোমোবাইল বাজারের ভবিষ্যৎ যে এখন পুরোপুরি সিএনজি, হাইব্রিড এবং ইভি-র হাতেই সুরক্ষিত, তা বলাই বাহুল্য।