সাসপেন্ড হবেন কি জ্ঞানেশ কুমার? ফর্ম ৬ নিয়ে ঐতিহাসিক শুনানির মুখে নির্বাচন কমিশন!

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং কার্যপ্রণালী নিয়ে ওঠা চরম বিতর্কের মাঝে এবার কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং স্বয়ং সিইসি-কে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ২৭ অক্টোবর এই হাই-প্রোফাইল মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে।

আইন মেনে কাজ হয়েছে তো? খতিয়ে দেখবে শীর্ষ আদালত

মামলাকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বাকি দুই কমিশনারের অনুমোদন বা সম্মতি ছাড়াই একতরফাভাবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। যার মধ্যে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) এবং বহুল চর্চিত ‘Form 6’-এ পরিবর্তন আনার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ও যুক্ত রয়েছে।

সোমবার মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলি দেশের আইন মেনে নেওয়া হয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। আদালত বার্তা দিয়েছে—যদি দেখা যায় কোনও সিদ্ধান্ত আইনকে অমান্য করে নেওয়া হয়েছে, তবে তা সরাসরি বাতিলও করা হতে পারে। তবে শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না। এর জন্য কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের লিখিত বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট মূল সরকারি ফাইল খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে আদালত।

Form 6 বিতর্ক ও প্রধান বিচারপতির বার্তা

উল্লেখ্য, ‘Form 6’-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও যোগ্য নাগরিকরা ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলার আবেদন জানান। অভিযোগ ওঠে, SIR চলাকালীন এই ফর্মের সঙ্গে নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র (Declaration) যুক্ত করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, Form 6-এ কোনও ধরনের পরিবর্তনের অনুমোদন সুপ্রিম কোর্ট দেয়নি। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত শুনানির সময় জানান, সরকারি নথি আদালতে জমা পড়ার পরেই খতিয়ে দেখা হবে যে আসল ফর্মে কে বা কীভাবে এই রদবদল ঘটিয়েছেন।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দাবি, মূল Form 6-এ কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। SIR-এর সুবিধার জন্য একটি অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র যুক্ত করা হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কমিশনের পূর্ণ অনুমোদনেই সম্পন্ন হয়েছিল।

সিইসি-কে সাসপেন্ড করার আর্জি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

মামলাকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং দাবি করেন, এই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে কোনও নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখা হোক এবং তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হোক।

তবে সুপ্রিম কোর্ট এখনই এমন কোনও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আদালত মন্তব্য করে, পেপার কাটিং বা সংবাদপত্রের খবরের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনারের মতো সাংবিধানিক পদে থাকা কাউকে বরখাস্ত করা যায় না। পাশাপাশি বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, সিইসি-কে সরিয়ে দিলে নির্বাচন কমিশনের দৈনন্দিন কাজকর্ম কীভাবে পরিচালিত হবে? মামলাকারীর আইনজীবী পাল্টা জানান, বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার যৌথভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।

সব মিলিয়ে, আগামী ২৭ অক্টোবরের শুনানি ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে চলেছে। সেই দিনের আগে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে তাদের সমর্থনে যাবতীয় সরকারি রেকর্ড এবং তথ্যপ্রমাণ সুপ্রিম কোর্টে পেশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।