পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের উপরে শত শত ঈগল, নীল চক্র ঘিরে উড়ন্ত পাখির রহস্যময় দৃশ্যে চাঞ্চল্য

শুক্রবার ওড়িশার পুরী জগন্নাথ ধাম মন্দিরের উপর দিয়ে শত শত ঈগল বা বাজপাখিকে উড়তে দেখার দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। মন্দির চত্বরের উপরে অবস্থিত রহস্যময় ‘নীল চক্রে’র (চূড়ায় স্থাপিত চাকা) চারপাশে একসঙ্গে এত পাখির উড়ে বেড়ানোকে স্থানীয় ভক্তরা এক ঐশ্বরিক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। এই ঘটনাটি বহু প্রাচীন বিশ্বাস এবং ভবিষ্যদ্বাণীর আলোচনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

মন্দিরের উপর দিয়ে ঈগলদের চক্কর কাটার এই ভিডিওটি হিন্দু পুরাণ, স্থানীয় বিশ্বাস এবং ‘ভবিষ্যৎ মল্লিকা’ নামের এক ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ধর্মগ্রন্থের সঙ্গে সম্পর্কিত অসংখ্য তত্ত্বের জন্ম দিয়েছে।

‘ভবিষ্যৎ মল্লিকা’ এবং সতর্কীকরণ: ১৪০০ খ্রিস্টাব্দে ভগবান জগন্নাথের নির্দেশনায় পাঁচজন ওড়িশাবাসী সাধু (পঞ্চসখা) দ্বারা রচিত ‘ভবিষ্যৎ মল্লিকা’ একটি তালপাতার ধর্মগ্রন্থ, যা কলিযুগের সমাপ্তি এবং ভবিষ্যতের রহস্যময় ঘটনা বর্ণনা করে। এই গ্রন্থ অনুসারে, মন্দিরের পতাকার খুঁটির উপরে ঈগলের মতো পাখির বারবার আবির্ভাব প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধের মতো কোনও বড় সঙ্কটের ইঙ্গিত দিতে পারে।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, সাধারণত গরুড়ের (ভগবান বিষ্ণুর বাহন, যার সঙ্গে ঈগলের সম্পর্ক টানা হয়) সুরক্ষার কারণে পাখিরা মন্দিরের আকাশে উড়ে যায় না। তাই এই অস্বাভাবিক দৃশ্য নিয়ে ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এটিকে শুভ লক্ষণ মনে করে ভগবান বিষ্ণুর বাহন গরুড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত পবিত্র পাখি মনে করছেন, আবার কেউ কেউ একে বড় কোনো বিপদের পূর্বাভাস ভাবছেন।

মন্দির কর্তৃপক্ষের বিবৃতি: ভাইরাল ভিডিও এবং বিভিন্ন তত্ত্ব সম্পর্কে মন্দির কর্মকর্তারা একটি বিবৃতি জারি করেছেন। তাঁদের মতে, মন্দিরের চূড়ার উপর দিয়ে ঈগলের প্রদক্ষিণ করা বা উড়ে যাওয়া কেবল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। এর সঙ্গে কোনও ভবিষ্যদ্বাণীর সম্পর্ক নাও থাকতে পারে।

জগন্নাথ ধামের অমীমাংসিত রহস্য: পুরীর জগন্নাথ মন্দির এমনিতেই বহু অমীমাংসিত রহস্যের জন্য সুপরিচিত, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আজও মেলেনি। যেমন:

  • মন্দিরের চূড়ায় অবস্থিত পতাকাটি সর্বদা বাতাসের বিপরীত দিকে ওড়ে।

  • মন্দিরের চূড়ায় অবস্থিত নীল চক্রটি যে দিক থেকেই দেখা হোক না কেন, তা আপনার দিকে ফিরে তাকাচ্ছে বলে মনে হয়।

  • সিংহদ্বার দিয়ে প্রবেশ করলে সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ শোনা যায়, কিন্তু বাইরে দাঁড়ালে তা শোনা যায় না।

  • মন্দিরের প্রধান চূড়ার ছায়া কখনও মাটিতে পড়ে না

  • মন্দিরের রান্নাঘরে ৪০০ টিরও বেশি চুলায় ৫৬ ধরণের খাবার রান্না হয়, যেখানে সাতটি মাটির পাত্রের মধ্যে উপরের পাত্রের খাবার প্রথমে রান্না হয়, এবং নীচের পাত্রটি সবার শেষে রান্না হয়।

এই রহস্যময় আবহের মধ্যেই ঈগলদের এই দৃশ্য এখন ভক্তদের নতুন করে আলোচনা ও জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy