পুজোর মুখে বাঘাযতীনে রহস্যমৃত্যু, জলমগ্ন ঘরে ফ্রিজ পরিষ্কার করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট নাকি অন্য কারণ?

দুর্গাপূজা শুরুর দিনেই বাঘাযতীনের চিত্তরঞ্জন কলোনিতে এক মহিলার মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। বিগত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলমগ্ন ছিল এলাকাটি। জল নামার পর ঘর পরিষ্কার করার সময়ই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না।
ঠিক কী ঘটেছিল?
মৃতার নাম নমিতা পাল (৫৫)। তিনি চিত্তরঞ্জন কলোনির ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের ওই বাড়িতে একাই ভাড়া থাকতেন। কর্মসূত্রে তাঁর ছেলে থাকেন গুজরাটে।
জানা গেছে, আজ সকালে নমিতা পাল তাঁর জলমগ্ন ঘর পরিষ্কার করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ফ্রিজের পিছনের অংশ পরিষ্কার করতে যান। সকালবেলা আচমকাই বাড়িওয়ালা রতন দাস নমিতাদেবীর চিৎকার শুনতে পান। তিনি ছুটে গিয়ে দেখেন, নমিতা দেবী ছটফট করছেন। সঙ্গে সঙ্গেই রতন দাস স্ত্রীকে ডেকে এনে তাঁকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে পড়েন নমিতাদেবী। এরপর চিকিৎসক এসে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
রহস্য ঘনীভূত: বিদ্যুৎস্পৃষ্টের প্রবল আশঙ্কা
এই মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে দুটি কারণে:
১. হাতে দাগ: মৃতার ডান হাতে লাল দাগ দেখা গেছে, যা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার জোরালো ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২. ফ্রিজের কাছে কাপড়: যে কাপড় দিয়ে জল পরিষ্কার করা হচ্ছিল, সেটি ফ্রিজের পিছনের অংশে পাওয়া গেছে।
পুলিশের অনুমান, হয়তো জলমগ্ন অবস্থায় ফ্রিজের পিছনের অংশ পরিষ্কার করতে গিয়েই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। যাদবপুর থানার তদন্তকারীরা জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে। নমিতা দেবীর মৃত্যু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হয়েছে, নাকি অসুস্থতার কারণে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে—তা জানতে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
পাড়ায় মিশুকে বলে পরিচিত নমিতাদেবীর এই অকাল প্রয়াণে এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।