পুজোর আগেই বঙ্গে প্রলয়ঙ্কর আবহাওয়া! নিম্নচাপের সাঁড়াশি আক্রমণে কোন কোন জেলায় ভাসবে ভারী বৃষ্টিতে?

পুজোর আর বেশি দেরি নেই, ঠিক তার আগেই বাংলার আকাশে ফের কালো মেঘের ঘনঘটা এবং চোখ রাঙাচ্ছে প্রবল বৃষ্টি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, একটি শক্তিশালী নিম্নচাপের জেরে আজ, শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া এবং হতে পারে বজ্রপাত। মৌসুমি অক্ষরেখার সক্রিয়তা এবং উত্তর-মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট নিম্নচাপের জেরে বাংলার আবহাওয়া আগামী কয়েকদিন চরম অস্থির থাকবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন সূত্রে জানা গেছে, উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তরপ্রদেশের দক্ষিণাংশ ও মধ্যপ্রদেশের দিকে সরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গের আকাশ জুড়ে মেঘের সঞ্চার হয়েছে। আজ শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা—এই ছয়টি জেলায় এক বা দুই জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই জেলাগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এছাড়া দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলোতেও বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে।

কলকাতার আবহাওয়ার দিকে তাকালে দেখা যাবে, আজ শহরজুড়ে আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে এক-দু’দফা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আজ তিলোত্তমার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। কলকাতার বাসিন্দাদের জন্যও বজ্রবিদ্যুৎ এবং ৩০-৪০ কিমি বেগে বইতে পারে এমন ঝোড়ো হাওয়ার হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুধু আজ শুক্রবারই নয়, আগামীকাল শনিবারও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে। বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনায় শনিবারেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, এখনই বৃষ্টি থেকে পুরোপুরি রেহাই মিলছে না।

অন্যদিকে, শুধু দক্ষিণবঙ্গই নয়, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও বৃষ্টির কোনো কমতি নেই। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের মতো পাহাড়ি ও ডুয়ার্সের জেলাগুলিতেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পাহাড়ি অঞ্চলে টানা বৃষ্টির জেরে পার্বত্য রাস্তায় ধস নামার আশঙ্কা এবং নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে, আইএমডি (IMD)-র ৪ সেপ্টেম্বরের সতর্কতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে রাজ্য থেকে এখনই বর্ষার পাকাপাকি বিদায় হচ্ছে না। ফলে পুজো প্রস্তুতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘর থেকে বেরোনোর আগে অবশ্যই ছাতা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।