পুজোর আগেই ডেঙ্গির মেগা ফাসাঁদ! কোন জেলায় সংক্রমণ বাড়ছে হু হু করে? বড় সতর্কবার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আসন্ন দুর্গাপুজোর আনন্দ ও উৎসবের প্রাক্কালে রাজ্যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গি সংক্রমণ। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় স্বাস্থ্য ভবনে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে ডেঙ্গির বর্তমান পরিসংখ্যান তুলে ধরলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পুজোর আগে সংক্রমণ কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
পরিসংখ্যান ও জেলাভিত্তিক চিত্র: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যে বর্তমানে সক্রিয় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা রয়েছে ২০২ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মুর্শিদাবাদ জেলার, যেখানে বর্তমানে ৫৩৫ বা তার অধিক নয়, সুনির্দিষ্টভাবে ৫৮ জন সক্রিয় ডেঙ্গি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তালিকায় এর পরেই রয়েছে কলকাতা শহর (২৮ জন), উত্তর ২৪ পরগনা (১৭ জন) এবং হুগলি ও মালদা (প্রত্যেকটিতে ১৩ জন করে)। এছাড়া কলকাতা সংলগ্ন শহরতলি ও হলদিয়ায় ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যে বর্তমানে মোট ২৭টি বিশেষ ক্যাম্প সক্রিয় রয়েছে।
পরিষ্কার জল নিয়ে বড় ভুল ধারণা ভাঙলেন মন্ত্রী: অনেকেরই ধারণা যে পরিষ্কার জলে মশা ডিম পাড়ে না। এই ভ্রান্ত ধারণা দূর করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, পরিষ্কার ও নোংরা— উভয় প্রকার জলেই মশা বংশবৃদ্ধি করতে পারে। বাড়ির টব, খালি বোতল, পুরনো টায়ার বা চিপসের প্যাকেটে জমে থাকা জল অবিলম্বে ফেলে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রে কাটা পেঁপে গাছের ফাঁপা অংশ কিংবা বাঁশের খোলে জমা জলের বিষয়েও বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
উৎসবের মরশুমে বিশেষ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: সাধারণ মানুষকে হাত-পা ঢাকা পোশাক পরা এবং নিয়মিত মশারি বা মশা তাড়ানোর তেল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী। আসন্ন পুজোয় চিকিৎসা পরিষেবা নির্বিঘ্ন রাখতে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল খোলা থাকার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ বা মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট (Mobile Medical Unit) চালুর সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে একটু সচেতন থাকলেই উৎসবের আনন্দ সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।