মহাপ্রয়াণের পরও অটুট ম্যাজিক! শতবর্ষে পা দিয়েও কীভাবে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ভূপেন হাজারিকা?

ভারতরত্ন ডঃ ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবর্ষ উদযাপিত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। অসমে যেমন ‘সুধাকণ্ঠ’-এর শতবর্ষ পালিত হচ্ছে, তেমনই কলকাতাতেও উদযাপিত হচ্ছে এই বিশেষ দিন। মঙ্গলবার সোশাল মিডিয়ায় অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বিশ্ববরেণ্য গায়ককে স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, কলকাতায় শিল্পীর প্রাক্তন বাড়ি সংরক্ষণের ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অসম সরকারের একটি প্রতিনিধিদল কলকাতায় ভূপেন হাজারিকার স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি পরিদর্শন করেছে।

১৯২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর অসমের সাদিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এই মহান শিল্পী। তিনি মূলত অসমীয়া ভাষায় গান লিখলেও তাঁর বহু সৃষ্টি বাংলা ও হিন্দিতে অনূদিত হয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সমাজ সংস্কার, বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ব এবং মানবতার বাণী ছিল তাঁর সৃষ্টির মূল ভিত্তি। এদিন অসমের মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “ড. ভূপেন হাজারিকা কেবল একটি নামই নন; তিনি এক অনুভূতি যা অসমের হৃদয় ও সত্তায় মিশে আছে। তাঁর কালজয়ী সঙ্গীত প্রজন্মকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে চলেছে।”

বাংলার সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগ ছিল অবিচ্ছেদ্য। ‘গঙ্গা আমার মা’, ‘মানুষ মানুষের জন্য’, ‘আমি এক যাযাবর’-এর মতো বহু গান তিনি বাংলায় রচনা করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে কলকাতার গল্ফ ক্লাব রোডের একটি বাড়িতে তিনি বেশ কয়েক বছর বাস করেছিলেন। সেই বাড়িটি ছিল তৎকালীন বাংলার প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞদের অন্যতম আড্ডার প্রাণকেন্দ্র। বর্তমানে বাড়িটি পরিত্যক্ত ও জীর্ণ দশা প্রাপ্ত হওয়ায়, রবিবার অসম সরকারের একটি প্রতিনিধিদল বাড়িটি পরিদর্শন করে। প্রতিনিধিদলের সদস্য তথা অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বি কল্যাণ চক্রবর্তী জানান, সুধাকণ্ঠের স্মৃতি বিজড়িত দোতলার ঘরটি সংরক্ষণের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে তাঁরা কথা বলবেন।

অসম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ত্রিদিব শর্মা জানান, নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে ভূপেনবাবু মুম্বই চলে যান। একসময় লতা মঙ্গেশকর এবং মান্না দে-র মতো দিকপাল শিল্পীরা এই বাড়িতে আসতেন। বর্তমানে একাধিক মালিকানা থাকায় এটিকে স্মৃতিসৌধে রূপান্তর করা কিছুটা জটিল হলেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাড়িটি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেই তাঁরা আশাবাদী।