পুজোয় ভিড় এড়াতে ঘুরে আসুন বাংলার নবাবের শহরে! কম খরচে হাজারদুয়ারি ঘোরার তাক লাগানো গাইড!

আর হাতেগোনা মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা, তারপরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। এই পুজোর ছুটিতে ভ্রমণপিয়াসীরা যখন নতুন কোনো ঐতিহাসিক ঠিকানার খোঁজে ব্যস্ত, তখন কম খরচে ঘুরে আসার জন্য সেরা ঠিকানা হয়ে উঠতে পারে বাংলার নবাবের শহর মুর্শিদাবাদ। নবাবী আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন, মসজিদ, রাজপ্রাসাদ ও স্মৃতিসৌধের অপূর্ব সমাহারে ঘেরা এই ঐতিহাসিক শহর প্রতি মুহূর্তে পর্যটকদের মনে নতুন চমক জাগায়।

কলকাতা বা শিয়ালদহ স্টেশন থেকে লোকাল ট্রেন, লালগোলা প্যাসেঞ্জার কিংবা এক্সপ্রেস ধরে সোজা পৌঁছে যাওয়া যায় মুর্শিদাবাদ স্টেশনে। এছাড়া সড়কপথে বহরমপুর এসে সেখান থেকে অটো বা গাড়ি ভাড়া করেও খুব সহজেই মুর্শিদাবাদ পৌঁছনো সম্ভব, যার দূরত্ব মোটে ১১ কিলোমিটার। বহরমপুর থেকে মুর্শিদাবাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত হওয়ায় পর্যটকদের যাতায়াতে কোনো অসুবিধা হয় না।

ইতিহাসের টানে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হলো বিশ্বখ্যাত ‘হাজারদুয়ারি প্রাসাদ’। ভাগীরথী নদীর তীরে ১২ বিঘা জমির ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ৮০ ফুট উচ্চতার এই প্রাসাদটি নির্মিত হয়েছিল নবাব নাজিম হুমায়ুন জা’র আমলে, ১৮২৯ থেকে ১৮৩৭ সালের মধ্যে। ব্রিটিশ প্রকৌশলী মেজর ডানকান ম্যাকলয়েডের নকশায় ইউরোপীয় ধাঁচে তৈরি এই মহলের মূল আকর্ষণ এর দরজাগুলি। ‘হাজারদুয়ারি’ নাম হলেও এখানে মোট দরজার সংখ্যা ১০০০টি নয়, বরং এর মধ্যে ১০০টি দরজা সম্পূর্ণ কৃত্রিম বা দেওয়ালের গায়ে আঁকা। ফলে আসল দরজা রয়েছে ৯০০টি। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সামলাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (ASI)। ত্রিতল এই প্রাসাদের প্রথমতলে রয়েছে বিশাল অস্ত্রাগার, অফিস-কাছারি ও রেকর্ড রুম। এখানে সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় ২,৬০০টি প্রাচীন অস্ত্র, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করার জন্য ব্যবহৃত মহম্মদী বেগের অস্ত্র এবং পলাশীর যুদ্ধে ব্যবহৃত মীরমদনের কামান। হাজারদুয়ারির ঠিক পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক ইমামবাড়া, ঘড়ি ঘর, মদিনা মসজিদ এবং চক মসজিদের মতো নান্দনিক স্থাপত্য।

থাকা এবং খাওয়ার সুবিধার জন্য এখানে রয়েছে বিভিন্ন বাজেটের হোটেল। ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০০ টাকার মধ্যে সাধারণ ও বিলাসবহুল রুম পেয়ে যাবেন পর্যটকরা। বহরমপুর টুরিস্ট লজ, যুব আবাস থেকে শুরু করে একাধিক বেসরকারি হোটেল ও লজে অগ্রিম বা সরাসরি বুকিংয়ের সুবিধা রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় দর্শনীয় স্থান যেমন মতিঝিল বা জগৎশেঠের বাড়ি ঘোরার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ভাড়ায় ঘোড়ার গাড়ি ও ব্যাটারি চালিত ই-রিকশার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। পুজোর ক’দিন ইতিহাসের আবহে ছোট্ট ছুটি কাটাতে আজই প্যাক করুন ব্যাগ!