পদক আসবে কী করে? এশিয়ান প্যারা গেমসের দল নির্বাচন ঘিরে টাকার খেলা ও স্বজনপোষণের অভিযোগে তুলকালাম রাজধানী

১৮ অক্টোবর থেকে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় শুরু হতে চলা এশিয়ান প্যারা গেমসকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ভারতীয় দলের এক জাঁকজমকপূর্ণ বিদায় সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু পাঁচতারা হোটেলের এই অনুষ্ঠান মঞ্চেই ঘটে গেল চরম বিপত্তি। দল নির্বাচনে স্বজনপোষণ এবং কর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ঘুষ চাওয়ার গুরুতর অভিযোগে সরব হলেন খোদ দেশের প্যারা-শ্যুটাররা। দশ জনেরও বেশি শ্যুটার এবং কোচ এই নজিরবিহীন বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের হাতে থাকা এআই-জেনারেটেড পোস্টারগুলিতে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল—”যে টাকা দেবে, সে-ই এশিয়ান গেমসে যাবে।”
বিক্ষোভকারীদের প্রধান নিশানায় ছিলেন জাতীয় ফেডারেশনের কর্তা জেপি নৌটিয়াল। মিক্সড ৫০ মিটার পিস্তল এসএইচ১ বিভাগের শীর্ষস্থানীয় শ্যুটার আকাশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি দেশের এক নম্বর শ্যুটার হওয়া সত্ত্বেও দলে আমার নাম নেই। জেপি নৌটিয়ালকে কোচ না করার খেসারত হিসেবেই আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।” একই ইভেন্টের এশিয়ার সাত নম্বর ও ভারতের দু’নম্বর শ্যুটার সন্দীপ আরও ভয়ংকর অভিযোগ তুলে দাবি করেন, নটিয়াল তাঁর প্রাইজ মানি থেকে কমিশন চেয়েছিলেন। শ্যুটার ও কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রে চলছে চরম দুর্নীতি।
সমস্ত অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়ে ফেডারেশনের কর্তা জেপি নৌটিয়াল দাবি করেছেন, প্যারালিম্পিক কমিটির নির্দিষ্ট নীতি এবং ট্রায়ালের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই দল বাছা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা দেখা করতে চাইলে পিসিআই সভাপতি দেবেন্দ্র ঝাঝরিয়া তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু অ্যাথলিটদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। সন্দীপের পাল্টা অভিযোগ, “গত দু’মাস ধরে ওঁরা শুধু ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন।” শ্যুটারদের পাশাপাশি প্যারা-সাইক্লিস্টরাও দল নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ঝাঝরিয়া স্বীকার করেছেন যে, সাইক্লিংয়ে ছ’জনের নাম পাঠানো হলেও মন্ত্রক মাত্র একজনকে অনুমোদন দিয়েছে। সব মিলিয়ে গেমস শুরুর আগেই ভারতীয় শিবিরে তৈরি হয়েছে চরম অশান্তি।