উপনির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক বিস্ফোরণ! হাতছাড়া ‘খাম’, আদালত যাওয়ার হুঁশিয়ারি নওশাদের

রাজ্য রাজনীতির অন্দরে তোলপাড়। আসন্ন উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীকে একলপ্তে বড়সড় বদল আনল নির্বাচন কমিশন। হাতছাড়া হয়েছে একাধিক দলের বহুল পরিচিত প্রতীক চিহ্ন। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে নওশাদ সিদ্দিকীর দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)। যে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে ভাঙড় বিধানসভা থেকে পরপর দু’বার বড় জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন নওশাদ, সেই প্রতীক চিহ্নই এখন তাঁর হাতছাড়া!
উপনির্বাচনে নওশাদের দল আইএসএফ-কে দেওয়া হয়েছে ‘আলমারি’ প্রতীক। অন্য দিকে, আইএসএফ-এর পুরনো ‘খাম’ চিহ্নটি তুলে দেওয়া হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন দল ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ (DTC)-এর হাতে।
কেন হাতছাড়া হলো ‘খাম’?
২০২১ সালে আত্মপ্রকাশের সময় আইএসএফ-এর নিজস্ব কোনো স্থায়ী প্রতীক ছিল না। সেই সময় বিহারের ‘রাষ্ট্রীয় সেকুলার মজলিস পার্টি’-র ‘খাম’ প্রতীক ধার নিয়ে নির্বাচনে লড়াই করে সংযুক্ত মোর্চার সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন নওশাদ। পরবর্তীতে লোকসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনেও এই প্রতীক ব্যবহার করেছিল আইএসএফ। ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে দলের স্থায়ী প্রতীকের জন্য আবেদন করা হলেও নির্বাচন কমিশন নতুন নির্দেশিকায় সেই প্রতীক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের হাতে তুলে দিল।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ নওশাদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, “যে দলটার অস্তিত্বই ছিল না, তারা রাতারাতি কীভাবে স্বীকৃত দল হয়ে গেল আর প্রতীক পেয়ে গেল? এই খেলা চলতে দেওয়া যায় না।” নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি সুবিচারের আশায় এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বদলে গেল হুমায়ুনের প্রতীকও
প্রতীক পরিবর্তনের কোপ পড়েছে হুমায়ুন কবীরের দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AUJP)-র ওপরও। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুনের দলের প্রতীক ছিল ‘বাঁশি’। উপনির্বাচনের আগে কমিশন সেই ‘বাঁশি’ বদলে তাদের নতুন প্রতীক দিয়েছে ‘টেবিল’। উল্লেখ্য, রেজিনগর ও নওদা দুই আসনে জিতে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দিয়েছিলেন হুমায়ুন। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর আসনে হতে যাওয়া উপনির্বাচনে হুমায়ুনের ছেলে গোলাম নবি আজাদ এই নতুন ‘টেবিল’ প্রতীকেই লড়াই করবেন।
জোড়াফুল বন্ধ, জোড়া শিবিরের নতুন নাম ও চিহ্ন
রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে যে, মূল ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত কোনো শিবিরই ব্যবহার করতে পারবে না। কমিশনের নির্দেশ মেনে শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল পৃথক নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব জমা দেয়।
চূড়ান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল: নতুন নাম হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের নির্বাচনী প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল: নতুন নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের প্রতীক ‘খাম’।
একদিকে মমতা শিবিরের ‘জোড়াফুল’ বন্ধ, অন্যদিকে নওশাদের ‘খাম’ ও হুমায়ুনের ‘বাঁশি’ হাতছাড়া—সব মিলিয়ে উপনির্বাচনের মুখে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে দিল।