পাসপোর্ট-আধার বাতিল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ! সিজেপি নেতার বিরুদ্ধে মাদ্রাজ হাইকোর্টে কড়া আইনি নোটিস!

বিচারব্যবস্থা এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিদের সম্পর্কে অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মুখপাত্র সৌরভ দাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় কঠোর পদক্ষেপ করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। শুক্রবার এই মামলার শুনানি শেষে অভিযুক্ত সৌরভ দাস এবং কেন্দ্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক ও দফতরকে নোটিস জারি করেছে আদালত। একই সঙ্গে আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত পক্ষের কাছে জবাব তলব করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সুশ্রুত অরবিন্দ ধর্মাধিকারী এবং বিচারপতি জি অরুল মুরুগানের ডিভিশন বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি ওঠে। চেন্নাইয়ের জামিন পল্লাভরমের বাসিন্দা আর গণেশ কুমার এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সৌরভ দাস বিভিন্ন সময়ে বিচারব্যবস্থা এবং ভারতের প্রধান বিচারপতি সহ সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করে চলেছেন, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী।
মামলাকারীর আইনজীবী বি জগন্নাথ আদালতে সওয়াল করেন যে, সৌরভের এহেন আক্রমণাত্মক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। গত ৭ অক্টোবর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এর পরই বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।
এই পিটিশনে বেশ কিছু বিস্ফোরক ও কঠোর আর্জি জানানো হয়েছে। আবেদনকারীর তরফে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সৌরভ দাস এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের পরিচয়, অতীত ও পারিবারিক পটভূমি নিয়ে একটি ‘বিশদ, পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ’ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এমনকি তাঁর মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পুদুচেরি সংযোগ নিয়েও তদন্তের আর্জি রয়েছে। তদন্তে কোনো বেআইনি বিষয় সামনে এলে সৌরভের পাসপোর্ট ও সংবেদনশীল সরকারি পরিচয়পত্র বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে তাঁর এক্স (পূর্বতন টুইটার) এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট অবিলম্বে ব্লক বা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে তিনি বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে এই ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য ছড়াতে না পারেন।
মামলায় চেন্নাইয়ের আঞ্চলিক পাসপোর্ট আধিকারিক, আধার কর্তৃপক্ষ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক, আইন ও বিচার মন্ত্রক এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রককে পক্ষ করা হয়েছে। এ ছাড়াও এক্স ও ইনস্টাগ্রামের গ্রিভান্স অফিসার বা অভিযোগ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আধিকারিকদেরও এই মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার আদালত নোটিস জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নিজেদের জবাব দাখিল করতে হবে। তবে বিচারপতির বেঞ্চ পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, এই প্রাথমিক পর্যায়ে আদালত সৌরভের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য বা সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং তাঁর নথি বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বাতিলের বিষয়েও কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেয়নি। আগামী দিনে ছ’সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।