স্ত্রী ২-এর সাফল্যের পর ইতিহাস গড়লেন শ্রদ্ধা কাপুর! প্রথম বায়োপিক ‘ইথা’-র ট্রেলার আসতেই কাঁপল সোশ্যাল মিডিয়া!

বলিউডের জনপ্রিয় এবং বহুচর্চিত অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারে এই প্রথমবার কোনো জীবনীমূলক ছবি অর্থাৎ বায়োপিকে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। গত ২০২৪ সালে ব্লকবাস্টার হরর-কমেডি ছবি ‘স্ত্রী ২’-এর সুবাদে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ানোর পর, এবার তিনি মহারাষ্ট্রের কিংবদন্তি ‘লাবণী’ ও ‘তামাশা’ শিল্পী বিথাবাই ভাউ মাং নারায়ণগাঁওকরের বায়োপিক ‘ইথা’-য় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অবতীর্ণ হয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছেন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে এই বহুল প্রতীক্ষিত ছবির তাক লাগানো ট্রেলার, যা মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

ম্যাডক ফিল্মসের ব্যানারে এবং বিশিষ্ট প্রযোজক দীনেশ ভিজানের প্রযোজনায় নির্মিত ‘ইথা’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন খ্যাতনামা পরিচালক লক্ষ্মণ উতেকর। ছবিটিতে রণদীপ হুডা এবং মোহাম্মদ জিশান আইয়ুবের মতো শক্তিশালী অভিনেতারাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবির মূল চিত্রনাট্য আবর্তিত হয়েছে ১৯৪০ থেকে ১৯৯০-এর দশকের পটভূমিতে। মহারাষ্ট্রের লোকসংস্কৃতির অন্যতম স্তম্ভ বিথাবাইয়ের খ্যাতির চূড়ায় ওঠার রোমাঞ্চকর পথচলা এবং তাঁর জীবনের নানা মর্মান্তিক প্রতিকূলতার গল্প তুলে ধরা হবে এই সিনেমায়। মারাঠা ইন্ডাস্ট্রির এই কিংবদন্তি শিল্পীর না বলা যন্ত্রণার ইতিহাস সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন নির্মাতারা।

কে ছিলেন এই কিংবদন্তি বিথাবাই ভাউ মাং নারায়ণগাঁওকর? ১৯৩৫ সালে সোলাপুরের পান্ধারপুরে জন্মগ্রহণ করা বিথাবাই ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গানের প্রবল অনুরাগী ছিলেন। মাত্র চার বা পাঁচ বছর বয়সে তিনি স্কুল ছেড়ে দিয়ে তাঁর বাবা ভাউ বাপু মাং নারায়ণগাঁওকরের নিজস্ব লোকশিল্পের ট্রুপের সঙ্গে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন। বাড়িতেই নাচের তালিম নিয়ে তিনি তামাশা ও লাবণী শিল্পকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। চরম অসুস্থতা কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি শিল্পের প্রতি নিজের অকৃত্রিম ভালোবাসা ত্যাগ করেননি।

তবে বিথাবাইয়ের জীবনের সবচেয়ে রোমহর্ষক ও অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটেছিল তাঁর সন্তানের জন্মের দিন। তৎকালীন সময়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়া সত্ত্বেও হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে একটি তামাশা অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন তিনি। শো চলাকালীন আচমকাই তাঁর তীব্র প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। কিন্তু পেশাদারিত্বের চরম নিদর্শন রেখে তিনি মঞ্চ থেকে দূরে গিয়ে একটি সন্তানের জন্ম দেন এবং অবিশ্বাস্যভাবে পাথর দিয়ে নাভি কেটে ফের সটান মঞ্চে ফিরে এসে অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ করেন! তাঁর এই অমানবিক সাহসিকতা এবং শিল্পের প্রতি অতুলনীয় নিষ্ঠা দেখে সেদিনের দর্শকরা বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। সেই অদম্য সংগ্রামের গল্পই এবার সেলুলয়েডের পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে চলেছেন শ্রদ্ধা কাপুর। আগামী ৪ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বহুপ্রতীক্ষিত এই ছবি।