গভীর রাতে খাড়ে হনুমান মন্দিরে গোপন স্ক্যান! মধ্যপ্রদেশের প্রাচীন মূর্তির নিচে কি লুকিয়ে রয়েছে কোনো রহস্য?

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর ঐতিহাসিক ও প্রাচীন খাড়ে হনুমান মন্দিরের মূর্তিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মন্দিরের মূল কাঠামো সরিয়ে ফেলার ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর, সম্প্রতি গভীর রাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে হানা দেয় একটি বিশেষ প্রশাসনিক দল। মূর্তি এবং তার আশপাশের মাটির নিচের অংশ স্ক্যান করে ভূগর্ভস্থ কাঠামোগত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেন তদন্তকারীরা। তবে এই গোপন পরীক্ষার পর মূর্তি সরানোর বিষয়ে প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট বা স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি, যা নিয়ে ভক্তমহলে গভীর অসন্তোষ ও সন্দেহের দানা বাঁধছে।

স্মার্ট সিটি প্রজেক্ট ও জেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিশেষ স্ক্যানিং গ্যাজেট এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে আধিকারিকদের একটি উচ্চপর্যায়ের দল গভীর রাতে মন্দিরে উপস্থিত হয়েছিল। এসডিএম এলএন গর্গের সরাসরি নেতৃত্বে ভোপাল থেকে আসা একদল বিশেষজ্ঞ এই অভিযানে অংশ নেন। সেই সময় স্থানীয় পুরসভা এবং পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরাও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে মূর্তির চারপাশ এবং মাটির নিচে স্ক্যানিং চালায় ওই বিশেষজ্ঞ দল। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত পদ্ধতির মাধ্যমে মূর্তির ভিত্তিমূল এবং মাটির নিচের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা হয়।

এই গোপন অভিযান প্রকাশ্যে আসার পরই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপি কাউন্সিলর তথা মন্দিরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত শিবেন্দ্র তিওয়ারি। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত প্রায় সাড়ে ১২টা। এসডিএম এলএন গর্গ ভোপালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে সঙ্গে নিয়ে হঠাৎ মন্দিরে হাজির হন। সঙ্গে ছিলেন পুলিশ ও পুরসভার কর্তারা। তাঁরা প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে খাড়ে হনুমানজির মূর্তি স্ক্যান করেন। কিন্তু রাত সাড়ে বারোটায় এভাবে অন্ধকারে মন্দিরে এসে গোপন স্ক্যানিং করার ঔচিত্য ও উদ্দেশ্য কিছুতেই বোধগম্য হচ্ছে না। প্রশাসনের এই লুকোচুরি খেলা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত বলে দাবি তুলেছেন তিনি।

শিবেন্দ্র তিওয়ারি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন ঠিক কী করতে চাইছে, তা অবিলম্বে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হোক। খাড়ে হনুমানজির এই মূর্তিটি কেবল উজ্জয়িনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এখানকার বজরংবলী দেশ-বিদেশে সমানভাবে বিখ্যাত ও পূজিত। এই পবিত্র মূর্তিকে ঘিরে সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। তাই সনাতন সমাজের মানুষের জানার অধিকার রয়েছে প্রশাসন আসলে কী ফন্দি আঁটছে।

এদিকে, এই গোপন স্ক্যানিং চলাকালীন একটি অদ্ভুত ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। জানা গেছে, ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা যন্ত্রপাতির ব্যাটারি হঠাৎ করেই রহস্যজনকভাবে নিজে থেকেই শেষ হয়ে যায়, যা দেখে খোদ প্রশাসনিক আধিকারিকরাও অসন্তুষ্ট ও বিব্রত হন। এই প্রসঙ্গে শিবেন্দ্র তিওয়ারি মন্তব্য করেছেন, এটি খোদ প্রভু হনুমানজির অলৌকিক ইঙ্গিত। এর আগেও তিনি নানাভাবে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এবারও দিলেন। ক্ষমতার অহংকারে যারা নিজেদের ঈশ্বরের চেয়েও বড় ভাবতে শুরু করেছেন, ভগবান তাঁদের সুবুদ্ধি দিন। মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়ে এই ধরনের গোপনীয়তা বন্ধ করে সমস্ত কাজ দিনের আলোয় সবার সামনে করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।