‘পাকিস্তান নয়, ভারত চাই’; পাক-দখলকৃত কাশ্মীরে সেনা-বিরোধী গণঅভ্যুত্থানে কাঁপছে রাওয়ালকোট

পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (PoK) এখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে গণবিক্ষোভ। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, অর্থনৈতিক শোষণ এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন সাধারণ মানুষ। মুজাফফরাবাদ, রাওয়ালকোট এবং মিরপুরের রাজপথ এখন উত্তাল। ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC)-এর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন মূলত বিদ্যুৎ, জল, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের দাবিতে দানা বাঁধলেও, বর্তমানে তা সরাসরি পাকিস্তানের দখলদারির বিরুদ্ধে এক বিশাল রাজনৈতিক অভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছে।
পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ১০ থেকে ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। আহত হয়েছেন শতাধিক সাধারণ মানুষ। এই নৃশংসতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের ক্ষোভের পারদ তুঙ্গে। রাজপথে এখন একটাই স্লোগান—‘আমরা পাকিস্তানের শাসনে আর থাকতে চাই না, ভারতের সঙ্গে মিলেমিশে শান্তির স্বাদ পেতে চাই।’ এই আন্দোলনের মূল সুর এখন ‘দখলদারি মুক্ত কাশ্মীর’ এবং ভারতের সঙ্গে বিলীন হওয়ার দাবি।
অন্যদিকে, জম্মুতে পিওজেকে রিফিউজি সেলের উদ্যোগে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখান থেকে বহু উদ্বাস্তু পরিবার ভারত সরকারের কাছে সরাসরি আবেদন জানিয়েছেন, পাক অধিকৃত অঞ্চলটিকে ভারতের সঙ্গে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে। রিফিউজি সেলের সদস্যরা জানিয়েছেন, পিওজেকে-তে স্থানীয়দের ওপর পাকিস্তানি সেনার অত্যাচার চরমে পৌঁছেছে। তাদের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এবং অন্য প্রদেশের মানুষদের সেখানে বসতি স্থাপন করিয়ে স্থানীয়দের কোণঠাসা করার নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে।
পিওজেকে-র বর্তমান চিত্রটি সত্যিই উদ্বেগজনক। এক দিকে পাকিস্তানি সেনা ও কর্মকর্তাদের বিলাসিতা, অন্য দিকে সাধারণ মানুষের চরম দারিদ্র্য ও অন্ধকার। বিদ্যুৎ নেই, জলের তীব্র সংকট, আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য এবং বেকারত্বের জ্বালা পিওজেকে-র যুবসমাজকে দিশাহারা করে তুলেছে। এর বিপরীতে, ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের সামগ্রিক উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানের আমূল পরিবর্তন পিওজেকে-র মানুষের মনে ভারতমুখী আবেগ তীব্রতর করেছে। রাস্তাঘাট, আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা এবং পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসারের খবর সেখানে পৌঁছেছে, যা তাদের মনে পাকিস্তান সম্পর্কে তীব্র বিতৃষ্ণার জন্ম দিয়েছে।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে বলছেন, “পাকিস্তান আমাদের ভাই নয়, তারা কেবলই দখলদার।” এই গণআন্দোলন কেবল মৌলিক অধিকারের লড়াই নয়, এটি এখন পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্তির লড়াই। বিশেষজ্ঞমহলের মতে, ভারতের উন্নয়ন দেখে পিওজেকে-র বাসিন্দারা যেভাবে ভারতমুখী হচ্ছেন, তা বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সেনাবাহিনীর দমননীতি পিওজেকে-কে এক চরম সংঘাতের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ভারত সরকার এবং আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতির দিকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে নজর দেয়।