‘পাকিস্তান টাইটানিকের মতো ডুবছে’, দুর্নীতির প্রতিবাদে উত্তাল পাক অধিকৃত কাশ্মীর, সামরিক শাসনের অভিযোগ

পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে/POK)-এর পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে। প্রচণ্ড দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অর্থনৈতিক অবনতির কারণে অঞ্চলে যে হিংসাত্মক বিক্ষোভ চলছে, তাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি কড়া আক্রমণ শানালেন ইউনাইটেড কাশ্মীর পিপলস ন্যাশনাল পার্টি (ইউকে পিএনপি)-র এক শীর্ষ নেতা।
ইউকে পিএনপি-র নেতা আমজাদ আয়ুব খান, যিনি লন্ডন থেকে এই বিবৃতি দিয়েছেন, তিনি বলেন,
“পাকিস্তানের অর্থনীতি টাইটানিক জাহাজের মতো অচল হয়ে পড়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, পিওকে-তে মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুৎ সংকট এবং খাদ্যাভাবের মধ্যে লোকেরা রাস্তায় নেমেছে, কিন্তু এর পিছনে শুধু অর্থনীতি নয়, রাজনৈতিক দমন এবং দুর্নীতির জালই মূল অপরাধী।
সামরিক শাসন ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
ইউকে পিএনপি-র মতে, পাকিস্তান সরকার পিওকে-তে একরকম সামরিক শাসন চালিয়ে যাচ্ছে। এই দমন-পীড়ন স্থানীয়দের ভাষা, সংস্কৃতি এবং অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।
দমন-পীড়ন: গত মাসে মীরপুর, মুজাফরাবাদ এবং কোটলিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগ: আমজাদ আয়ুব খান অভিযোগ করেন, “ইসলামাবাদ থেকে আসা কর্মকর্তারা লক্ষ লক্ষ ডলারের সাহায্য তহবিল লুট করছে। স্থানীয় প্রকল্পগুলো কাগজে থেকে বাস্তবে স্থাপিত হচ্ছে না।”
মানবাধিকার লঙ্ঘন: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থার রিপোর্টেও পিওকে-তে নির্যাতন, গুম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের অভিযোগ উঠেছে। গত বছরে ২০০-এর বেশি রাজনৈতিক কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের পাল্টা দাবি ও আন্তর্জাতিক আহ্বান
সম্প্রতি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিদ্যুৎ ট্যারিফ বাড়ানো, জ্বালানি মূল্যস্ফীতি এবং চাকরির অভাব নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও, ইউকে পিএনপি-র দাবি, এর মূলে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্নীতি।
অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এই বিক্ষোভ “বহিরাগত শক্তির ষড়যন্ত্র” এবং “ভারতীয় প্রোপাগান্ডা”। প্রধানমন্ত্রী শহবাজ শরিফের সরকার দাবি করেছে যে, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আইএমএফ-এর সাহায্য নেওয়া হচ্ছে এবং পিওকে-তে উন্নয়ন প্রকল্প চালু হবে।
ইউকে পিএনপি-র মতো নির্বাসিত গ্রুপগুলো এখন আন্তর্জাতিক সমর্থন চাইছে। আমজাদ আয়ুব খান বলেন, “রাষ্ট্রসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। পিওকে-র মানুষেরা স্বাধীন নির্বাচন এবং অধিকার চায়, দমন নয়।”