পাকিস্তানে মরুভূমির মাঝে তরুণীকে গুলি করে হত্যা, ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড়

মরুভূমির তপ্ত বালির ওপর দিয়ে হেঁটে চলেছেন এক তরুণী, মাথায় ওড়না, হাতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। তাঁর পিছনে হাতে বন্দুক নিয়ে অনুসরণ করছেন এক তরুণ। কিছুক্ষণ একসঙ্গে হাঁটার পরই আকস্মিক গুলির শব্দে ঝাঁঝরা হয়ে লুটিয়ে পড়েন তরুণী। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ‘অনার কিলিং’-এর ভয়াবহতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মর্মন্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের বালোচিস্তানে। নিহত তরুণীর নাম বানো বিবি। তাঁর ‘অপরাধ’ ছিল, তিনি সম্প্রতি পরিবারের অমতে আহসান উল্লা নামে এক যুবককে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। অভিযোগ, গত জুন মাসে তাঁকে গুলি করে খুন করা হয় এবং এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ২০শে জুলাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মরুভূমির মাঝে কয়েকটি পিক আপ ভ্যান দাঁড়ানো। একটি গাড়ি থেকে এক যুগলকে টেনে নামানো হলো। তাদের ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে একদল লোক। তারা স্থানীয় ব্রাহাভি ভাষায় কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু তরুণী বানো ছিলেন অনড়। এরপর তরুণীর হাতে একটি পবিত্র ধর্মগ্রন্থ দেওয়া হয়। বানো এরপর এক যুবককে বলেন, “আমার সঙ্গে সাত কদম চলুন। এর পরে না হয় গুলি করবেন।”

বানো বিবির পিছু পিছু কিছুক্ষণ হাঁটেন সেই তরুণ। আচমকাই বানো থেমে গিয়ে বলেন, “আপনি আমাকে শুধু গুলি করতেই পারেন, এর বেশি কিছু নয়।” অভিযোগ, এর পরই ঝলসে ওঠে যুবকের হাতে থাকা বন্দুক। বালির উপরেই লুটিয়ে পড়েন বানো। আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন উল্লাসে ফেটে পড়ে। এরপর আরও গুলির শব্দ শোনা যায়। ভিডিওর শেষ অংশে দেখা যায়, তরুণীর পাশে এক রক্তাক্ত পুরুষও পড়ে আছেন, সম্ভবত তিনিই আহসান উল্লা।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র শোরগোল শুরু হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং যুগলকে খুনের অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বানোকে হত্যার পিছনে তাঁর নিজের ভাই জড়িত রয়েছেন।

পাকিস্তানে ‘অনার কিলিং’ বা ‘সম্মান রক্ষার্থে হত্যা’ একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি হিসেবে পরিচিত। চলতি বছরের শুরুতেও পাকিস্তানে এক যুবকের বিরুদ্ধে নিজের ১৫ বছরের মেয়েকে গুলি করে খুন করে সেই ভিডিও টিকটকে পোস্ট করার অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৪ সালেই দেশটিতে ৪০৫টি অনার কিলিংয়ের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে, মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। এই ঘটনাগুলি আবারও পাকিস্তানে নারীর অধিকার এবং নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে এসেছে।