রান্নার গ্যাসে বড় ধাক্কা! হু হু করে কমছে এলপিজি ব্যবহার, হঠাৎ কিসে ঝুঁকছে দেশবাসী?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধের জেরে জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেল ভারতে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে দেশের বাজারে রান্নার গ্যাস বা এলপিজির (LPG) ব্যবহার এক ধাক্কায় প্রায় ১৬ শতাংশ কমে গেছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের মানুষের এলপিজি ব্যবহার কমে নেমে এসেছে ১ কোটি ১৩ লক্ষ টনে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১ কোটি ৩৪ লক্ষ টন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে এলপিজি সরবরাহ ও আমদানিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। পূর্বে ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসত উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে এবং তার প্রধান রুট ছিল হরমুজ প্রণালী। কিন্তু সেখানে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় আমদানির উৎস বদলে ফেলেছে ভারত। এখন উপসাগরীয় দেশগুলির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আমেরিকা থেকে এলপিজি আমদানি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একা আগস্ট মাসেই আমেরিকা থেকে প্রায় ২ লক্ষ ৭৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের ব্যবহার কমার পেছনে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিও বড় ভূমিকা পালন করছে। সরকার এখন সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ঘরে ঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি (PNG) পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে এলপিজি থেকে পিএনজি-তে রূপান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রান্নার জন্য পিএনজি অনেক বেশি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন এবং সুবিধাজনক হওয়ায় সাধারণ মানুষও স্বাচ্ছন্দ্যে এই ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন।

অন্যদিকে, এলপিজির চাহিদা কমলেও দেশের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার উলটো পথে হেঁটেছে। চলতি বছরের এপ্রিল-আগস্টের মধ্যে পেট্রোলের ব্যবহার ৬.৪ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮৯ লক্ষ টন এবং ডিজেলের ব্যবহার ৪.৩ শতাংশ বেড়ে ৪ কোটি ৫ লক্ষ টনে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে অগাস্ট মাসে বৃষ্টির ধরনে আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে কৃষকদের অতিরিক্ত ডিজেল পাম্প ব্যবহার করতে হওয়ায় জ্বালানি তেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।