পাঁচ বছর পর কবর খুঁড়ে দেহ উদ্ধার! সন্দেশখালিতে বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যুতে কোন নতুন মোড়?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ফের একবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সন্দেশখালি কাণ্ডকে কেন্দ্র করে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে সংঘটিত রাজনৈতিক হিংসার জ্যাঁতাকলে প্রাণ হারানো এক বিজেপি কর্মী আস্তিক চন্দ্র দাসের মরদেহ দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। আইনি নির্দেশ এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্তের অংশ হিসেবে এই দেহটি পুনরায় ময়নাতদন্ত এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপের ফলে রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন জোরালোভাবে উঠতে শুরু করেছে—তবে কি দীর্ঘ পাঁচ বছর পর এবার অবগাহন ঘটতে চলেছে ওই মৃত্যুর পেছনের আসল ও আসল সত্যের?

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের ঠিক পরেই রাজ্যজুড়ে যে ব্যাপক রাজনৈতিক হানাহানি ও হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, তার শিকার হয়েছিলেন সন্দেশখালির বাসিন্দা ও স্থানীয় বিজেপি কর্মী আস্তিক চন্দ্র দাস। সে সময়কার পুলিশের ভূমিকা এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সত্যতা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াকু লড়াই এবং উচ্চ আদালতের নজরদারিতে চলা ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলাগুলির তদন্তের অংশ হিসেবেই বর্তমানে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ দল কঠোর নিরাপত্তা এবং ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সংগ্রহ করে।

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মাটির নিচে দীর্ঘ পাঁচ বছর থাকার পরও দেহাংশের বৈজ্ঞানিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর সঠিক কারণ, আঘাতের ধরণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এই নতুন করে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আদালতের হাতে তুলে দেওয়া হলে ২০২১ সালের সেই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত কারণ উন্মোচন হতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই ফরেনসিক তদন্ত সন্দেশখালি মামলার গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি শিকজা আরও শক্ত করতে পারে। রাজ্যের সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে এই কবর থেকে দেহ উত্তোলনের ঘটনা আগামী দিনে নতুন কোনো আইনি ও রাজনৈতিক ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।