পরিবারতন্ত্রের দিন শেষ নাকি নতুন অঙ্ক! ভাইপোদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করে ভাইজিকে দলের দায়িত্ব দিলেন মায়াবতী?

বহুজন সমাজ পার্টির সুপ্রিমো মায়াবতীকে ঘিরে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ফের তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। এতদিন দলের উত্তরসূরি নির্বাচন কিংবা বিভিন্ন পদে নিজের ভাইপোদের আনাগোনা নিয়ে একাধিকবার সিদ্ধান্ত বদল করলেও, শনিবার লখনউয়ে দলিত নেত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য সমস্ত সমীকরণ উল্টে দিয়েছে। অতীতে বড় ভাইপো আকাশ আনন্দকে সর্বভারতীয় আহ্বায়ক পদে বসিয়েও পরে সরিয়ে দেওয়া এবং সম্প্রতি ছোট ভাইপো ঈশান আনন্দকে মঞ্চে আনার গুঞ্জনের মধ্যেই মায়াবতী এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা দিলেন। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, বিএসপি পরিবারবাদী দল নয় এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা কাঁসি রামও পরিবারতন্ত্রের ঘোর বিরোধী ছিলেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে মায়াবতী জানিয়েছেন, তাঁর ভাই আনন্দ কুমারের দুই ছেলে আকাশ বা ঈশানের বিএসপিতে আর কোনো জায়গা হবে না। পরিবারের আর কাউকে তিনি দলে কোনো বিশেষ সুবিধা দিতে নারাজ। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে তিনি সামনে এনেছেন বছর বাইশের তরুণী দীপিকার নাম। বর্তমানে দিল্লিতে আইন নিয়ে পড়াশোনা করা আনন্দ কুমারের তৃতীয় সন্তান দীপিকা যদি রাজনীতিতে যোগ দিতে চান, তবে তাঁর জন্য দলের দরজা খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএসপি সুপ্রিমো। এমনকি আনন্দ কুমারকেও নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে মায়াবতী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নিজের ছেলেদের দলীয় দায়িত্ব দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, বরং অবসর নিতে চাইলে অন্য কোনো পোড় খাওয়া দলিত নেতার হাতে দায়িত্ব সঁপে দিতে হবে তাঁকে।
তবে মায়াবতীর এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তনকে খুব একটা সহজভাবে নিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে দলের শোচনীয় ফল এবং বারবার ভাইপোদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে দলের অন্দরেও অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, পরিবারের ভেতর থেকেই কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের আশঙ্কায় এমন কড়া পদক্ষেপ করছেন মায়াবতী। বিশেষ করে আকাশ আনন্দকে তাঁর শ্বশুরের প্রভাবে চলার অভিযোগে সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনার পর, প্রবীণ এই নেত্রীর মানসিক ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।