পরমবীর চক্রে ভূষিত শহীদের স্মরণে মহা ম্যারাথনের ডাক! কবে ও কোথায় বসছে বায়ুসেনার এই মেগা আসর?

আসন্ন ‘সেখন ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স ম্যারাথন’-এর প্রচার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ফিটনেস সচেতনতা গড়ে তোলার এক মহতী উদ্যোগে রবিবার চণ্ডীগড়ের মনোরম সুখনা লেক চত্বরে একটি বিশেষ প্রচারমূলক দৌড়ের আয়োজন করল ভারতীয় বায়ুসেনা। ১২ উইং-এর এয়ার অফিসার কমান্ডিং (AOC), এয়ার কমোডর দীপক পন্থের পতাকাতলে এই প্রতীকি দৌড়ের সূচনা হয়। এদিনের এই বিশেষ পর্বে ভারতীয় বায়ুসেনার ৫০ জনেরও বেশি উৎসাহী কর্মী ও আধিকারিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে এক অন্যরকম উন্মাদনা তৈরি করে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এয়ার কমোডর দীপক পন্থ জানান যে, আগামী ২০২৬ সালের ৪ অক্টোবর চণ্ডীগড়ে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই প্রধান ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এই বিরাট আয়োজন আমাদের দেশের মহান বীর ফ্লাইং অফিসার নির্মল জিৎ সিং সেখনের পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। এটি মূলত একটি প্রচারমূলক দৌড়, যার মূল লক্ষ্য হল আগামী ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে চলা এই বিশাল ইভেন্ট সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে ওয়াকিবহাল করা। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রজন্ম এবং ফিটনেসপ্রেমী সমস্ত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো। আশাকরি ওই দিন আবহাওয়া এবং চারপাশের পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম থাকবে।”

জাতীয় বীরের অবদানের কথা স্মরণ করে এয়ার কমোডর পন্থ আরও জানান যে, ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের অগ্নিগর্ভ দিনে শ্রীনগর এয়ার বেস রক্ষা করতে গিয়ে চরম সাহসিকতা ও বীরত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন ফ্লাইং অফিসার নির্মল জিৎ সিং সেখন। তাঁর সেই অতুলনীয় ও অবিস্মরণীয় বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘পরমবীর চক্র’ দিয়ে ভূষিত করা হয়েছিল, যা ভারতীয় সামরিক ইতিহাসের পাতায় এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

রবিবার সুখনা লেকে আয়োজিত এই প্রাথমিক প্রচারমূলক দৌড়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য ও ফিটনেস নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা, তেমনই অন্যদিকে ফ্লাইং অফিসার সেখনের আত্মত্যাগ ও বীরত্বকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা। ভারতীয় বায়ুসেনার পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের ৪ অক্টোবর চণ্ডীগড়ে আয়োজিত হতে চলা এই ‘সেখন ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স ম্যারাথন’ কেবল একটি প্রতিযোগিতাই নয়, বরং এটি বায়ুসেনার অদম্য সাহস, কঠোর শৃঙ্খলা এবং দেশের প্রতি আত্মত্যাগের চেতনাকে সম্মান জানানোর এক অনন্য মাধ্যম। এই ইভেন্টের মাধ্যমে সারা দেশের তরুণ সমাজকে সুস্থ জীবনধারা ও জাতীয় ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগানো হচ্ছে।