“পরপুরুষের স্পর্শ নিষিদ্ধ”-ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপে আটকে মরছেন আফগান নারীরা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘অচলায়তন’ নাটকের বাস্তব রূপ যেন একবিংশ শতাব্দীর আফগানিস্তান। কঠোর ধর্মীয় নিয়ম আর গোঁড়া বিশ্বাসের বলি হচ্ছেন ভূমিকম্পের শিকার নারীরা। সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষ মারা গেলেও, নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে তালিবান সরকারের অদ্ভুত ফতোয়া।
তালিবান সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো নারী তার বাবা, স্বামী, ভাই বা ছেলে ছাড়া অন্য কোনো পুরুষকে স্পর্শ করতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞা উদ্ধারকাজে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। পুরুষ উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা নারীদের স্পর্শ করতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তারা আহত বা মৃত নারীদের শুধু পোশাক ধরে টেনে বের করছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভূমিকম্পে আহত এক নারী জানান, তাকে ৩৬ ঘণ্টা ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে ফেলে রাখা হয়েছিল, কারণ উদ্ধারকর্মীরা তাকে স্পর্শ করতে রাজি ছিলেন না।
আফগানিস্তানে মহিলা উদ্ধারকর্মীর অভাব স্পষ্ট। তালিবান সরকারের ফতোয়ায় মেয়েদের ডাক্তারি প্রশিক্ষণ, উদ্ধারকাজ বা প্রশাসনিক পদে কাজ করা নিষিদ্ধ। ফলে আহত নারীদের সাহায্য করার মতো কেউ নেই বললেই চলে। অনেক ক্ষেত্রে পাশের গ্রামের নারীরা এসে তাদের উদ্ধার করছেন, কিন্তু চিকিৎসা জ্ঞানের অভাবে আহতদের সঠিকভাবে শুশ্রূষা করা সম্ভব হচ্ছে না। ৩৩ বছর বয়সী এক স্বেচ্ছাসেবক তাহজিবুল্লাহ মুহাজিব জানিয়েছেন, পুরুষ স্বেচ্ছাসেবকরা মহিলাদের উদ্ধার করতে চাইলেও তালিবানের শাস্তির ভয়ে তারা সাহস পাননি।
আনুষ্ঠানিকভাবে মৃতের সংখ্যা প্রকাশ না করলেও, ডাক্তার, উদ্ধারকর্মী এবং জীবিতদের মতে, ভূমিকম্পে নারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখনও অনেক জায়গায় ধ্বংসস্তূপের নিচে নারীরা আটকে আছেন, যারা এই অমানবিক নিয়মের বলি হচ্ছেন। প্রায় ২,২০০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩৬০০ জনেরও বেশি। তালিবানের দমনমূলক নীতির কারণে আফগান নারীদের জীবনমান আরও তলানিতে নেমে গেছে।