জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা! প্রধান বিচারপতির মন্তব্যে চরম শোরগোল

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার দাবি এবং স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। এই আবহে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও সিইসি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলা। যদিও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে শীর্ষ আদালত রাতারাতি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ, তবুও প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ গোটা দেশের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রধান বিচারপতি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশনে যদি সর্বসম্মতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তবে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচন কমিশনার বা এসআইআর-এর মতো নীতিগত বিষয়ে ঠিক কতখানি হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের?

এই আইনি জট ও বিতর্কের মধ্যেই TV9 বাংলার মুখোমুখি হয়ে দেশের বিশিষ্ট প্রবীণ আইনজীবী তথা প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) জয়ন্ত মিত্র এই বিষয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ভারতীয় সংবিধানের অধীনে শীর্ষ আদালতের কাছে অত্যন্ত ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী ক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কোনো ধরনের ‘ফাংশনাল ইনএবিলিটি’ বা কার্যগত অক্ষমতা কিংবা পদ্ধতিগত বড় ধরনের ত্রুটি সামনে এলে সুপ্রিম কোর্ট তাতে অবশ্যই হস্তক্ষেপ করতে পারে।

তবে জয়ন্ত মিত্র আরও স্পষ্ট করেছেন যে, পদ্ধতিগত দিক খতিয়ে দেখার অধিকার আদালতের থাকলেও, কমিশন কর্তৃক গৃহীত চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্তে আদালত সরাসরি নাক গলাতে পারে না। তাঁর কথায়, “সুপ্রিম কোর্ট শুধুই প্রক্রিয়া ও এক্তিয়ার নজরে রাখতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচেটিয়া অধিকার একমাত্র নির্বাচন কমিশনেরই রয়েছে। কোনো সিদ্ধান্ত যদি কমিশন নেয়, তবে তার অন্তর্নিহিত যুক্তি বা মেরিট কতখানি সঠিক, তা আদালত বিচার করতে পারে না; কিন্তু সঠিক পন্থায় বা আইনি নিয়মে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা সুপ্রিম কোর্ট খতিয়ে দেখতে পারে।”

প্রসঙ্গত, বর্তমান মামলায় প্রধান অভিযোগ উঠেছে যে, বাকি দুই কমিশনারের মতামত বা সম্মতি ছাড়াই এসআইআর সংক্রান্ত বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে কার্যকর করা হয়েছে। অর্থাৎ, কমিশন সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেই অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে প্রবীণ আইনজীবী জয়ন্ত মিত্রের মত, যদি এই অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত ও শক্তপোক্ত আইনি রেকর্ড বা প্রমাণ আদালতে পেশ করা যায় এবং প্রমাণিত হয় যে সবার মত ছাড়াই সিদ্ধান্ত চাপানো হয়েছে, তবে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতেই পারে। কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত সঠিক কি ভুল, তা বিচার করার দায়িত্ব কমিশনারের হলেও, তা সঠিক নিয়মে প্রণীত হয়েছে কি না—সেই আইনি প্রশ্ন তোলার অধিকার সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে। এই মামলার পরবর্তী জল কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।