পণের দাবিতে চরম নৃশংসতা, বলি ৮ মাসের শিশু! উল্টো করে ঝুলিয়ে রাস্তায় ঘোরালেন যুবক

পণের দাবিতে অত্যাচার এবং তার চরম পরিণতি আবারও সামনে এল এক ভয়াবহ ঘটনায়। আট মাসের শিশুসন্তানকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়ালেন এক যুবক। এই নৃশংস ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে। অভিযুক্ত স্বামী সঞ্জুর বিরুদ্ধে পণের দাবিতে অত্যাচার ও মারধরের অভিযোগ এনেছেন তার স্ত্রী সুমন।
স্ত্রীর অভিযোগ:
সুমনের অভিযোগ, ২০২৩ সালে বিয়ের পর থেকেই স্বামী সঞ্জু তার পরিবারের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং একটি গাড়ির জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। পণ দিতে না পারায় সঞ্জু একাধিকবার সুমনকে মারধরও করেছেন। সুমন প্রশাসনকে জানিয়েছেন, ‘একদিন ওদের বাড়ি গেলে আমার দেওর, জা সবাই মিলে মারধর করে। বলেছিল, ২ লক্ষ টাকা আর গাড়ি এনে দাও। বারবার মারধর করা হত। এখন তো নিজের বাচ্চাকে উল্টো করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। চার বার গাঁয়ের রাস্তায় ঘোরাল। ও অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’
সুমন আরও অভিযোগ করেন, যখন তার সন্তানকে ঝুলিয়ে ঘোরানো হচ্ছিল, তখন সঞ্জু নিজেই বলছিলেন, ‘ভিডিও করো, ভিডিও করো। বলছিল, টাকা দাও। আমি তো গরিব, কোথা থেকে টাকা আনব? তারপর আমাকে মারধর করতে শুরু করে।’ তিনি এখন সঞ্জু এবং তার পরিবারের সবাইকে জেলে পাঠাতে চান বলে জানিয়েছেন।
পুলিশের পদক্ষেপ ও স্থানীয়দের প্রশ্ন:
এই ঘটনা প্রসঙ্গে মিলক খানম থানার ইনচার্জ নিশা খাতানা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সঞ্জুর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫১ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। একইসঙ্গে যুবককে কাউন্সেলিং সেন্টারেও পাঠানো হয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, একটি আট মাসের শিশুর প্রতি এমন অমানবিক আচরণ করার পর শুধুমাত্র কাউন্সেলিংয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা উচিত নয়। তারা চান, সুমনের অভিযোগের ভিত্তিতে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
শিশুর অবস্থা ও সমাজকর্মীদের দাবি:
সূত্রের খবর, নির্যাতিত শিশুটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তারা প্রয়োজনীয় সাহায্যও পাচ্ছেন না। এই ঘটনার জেরে সমাজে পণপ্রথা এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন সমাজকর্মীরা। তারা বলছেন, এই ধরনের ঘটনাগুলি সমাজের গভীর সমস্যাগুলিকে তুলে ধরে এবং এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।