পঞ্চায়েতে ৮,০০০ শূন্যপদে চাকরি, এক বৈঠকেই মাস্টারস্ট্রোক শুভেন্দু-দিলীপ জুটির

গ্রামীণ বাংলার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে গতি আনতে পঞ্চায়েত দফতরে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। বুধবার সল্টলেকের পঞ্চায়েত ভবনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রমাণিকের উপস্থিতিতে সমস্ত জেলার কাজের নিবিড় পর্যালোচনা ও রিপোর্ট কাটাছেঁড়া করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বৈঠক শেষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যবাসীর জন্য একাধিক বড়সড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং আর্থিক বরাদ্দের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, খুব শীঘ্রই সমগ্র দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত দফতর একটি অনন্য ‘রোল মডেল’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

সরকারি চাকরির বড় সুযোগ: ৭২০০ পদে নতুন নিয়োগ

উৎসবের মরশুমেই চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, পঞ্চায়েত দফতরে ৭২০০টি স্থায়ী পদে এবং প্রায় এক হাজার চুক্তিভিত্তিক কর্মী পদে নতুন নিয়োগ করতে চলেছে রাজ্য সরকার।

  • নিয়োগের সময়সীমা: আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে এই সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।

  • কবে থেকে শুরু: কালীপুজোর পর পরই এর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

  • স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে PSC: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১০০% স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং স্বজনপোষণ রুখতে রাজ্য সরকার বিধানসভায় প্রয়োজনীয় বিধি সংশোধন করবে। সম্পূর্ণ পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC)।

ভিবিজি-রামজি প্রকল্পে ২২ লক্ষ মানুষের কাজের লক্ষ্যমাত্রা

প্রশাসনের শীর্ষনেতা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যের গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যবহার করা হচ্ছে। ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা বা ‘ভিবিজি-রামজি’ (VBG-RAMJI) প্রকল্পে এ যাবৎ ৬৫.৬২ লক্ষ কর্মদিবস তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৭ লক্ষ মানুষ কাজ পাচ্ছেন।

পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এ প্রসঙ্গে যোগ করেন, এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমান দফাতেই অন্তত সাত হাজার কোটি টাকার স্থায়ী সম্পদ বা ‘পাবলিক অ্যাসেট’ তৈরি করা সম্ভব হবে। এছাড়া, আগামী দিনে এই প্রকল্পে নতুন করে আরও ২২ লক্ষ মানুষকে কাজ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, ‘প্রধানমন্ত্রী আবাসন যোজনা’র আওতায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৪ লক্ষ আবেদনকারীর সমীক্ষা শেষ হয়েছে, যার মধ্যে যোগ্য ৪৭ লক্ষ পরিবারকে পর্যায়ক্রমে বাড়ি বানিয়ে দেওয়া হবে।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতায় কঠোর পদক্ষেপ: ৩১ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ড বাতিল

প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা পান, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, রাজ্যে তদন্তের পর ইতিমধ্যেই ৩১ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ড বাতিল করা হয়েছে এবং তার বদলে প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের নতুন ১০ লক্ষ জব কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, কেন্দ্র সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এবং রাজ্য সরকার দিচ্ছে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। ফলে পঞ্চায়েত এলাকায় ইতিমধ্যেই প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

নিউ টাউনে গড়ে উঠবে আধুনিক ‘পঞ্চায়েত ভবন’

এদিনের পর্যালোচনা বৈঠক থেকে গ্রামীণ প্রশাসনিক পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক করার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সল্টলেকের বর্তমান ভবনের পাশাপাশি নিউ টাউনে একটি সর্বাধুনিক নতুন ‘পঞ্চায়েত ভবন’ তৈরি করা হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচ একর জমিও ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট করে ফেলা হয়েছে।