পকেটে ফের বড় ধাক্কা! নভেম্বর থেকে একলাফে হু হু করে বাড়ছে বিদ্যুৎ বিল, চরম দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ!

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সাধারণ মানুষের পকেটে আরও এক দফা টান পড়ার উপক্রম। মুদ্রাস্ফীতির এই কঠিন সময়ে সংসার চালানো যখন দায়, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য এল এক দুঃসংবাদ। ক্রমবর্ধমান খরচ সামাল দিতে ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ খরচ সংক্রান্ত একটি ‘ট্রু-আপ চার্জ’ অনুমোদন করা হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে। আগামী নভেম্বর মাস থেকেই কার্যকর হতে চলেছে এই অতিরিক্ত চার্জ।
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেলঙ্গনা স্টেট ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন (TGERC) ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরের জন্য বিদ্যুৎ খরচ বাবদ এই বিশেষ ট্রু-আপ চার্জ অনুমোদন করেছে। এর মাধ্যমে মোট ৫,৪২০ কোটি টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত হবে। আগামী মাস অর্থাৎ নভেম্বর ২০২৬ থেকে গ্রাহকদের এই বাড়তি বোঝা টানতে হবে। বাণিজ্যিক, শিল্পোদ্যোগ এবং সাধারণ আবাসিক—সব ধরনের বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, নভেম্বরের বিদ্যুৎ বিলে প্রতি ইউনিটে ৩০ পয়সা হারে এই ট্রু-আপ চার্জ ধার্য করা হবে। এখানেই শেষ নয়, পরিস্থিতি আরও জটিল করে ডিসেম্বর মাস থেকে এই চার্জ বাড়িয়ে প্রতি ইউনিটে সরাসরি ৫০ পয়সা পর্যন্ত করা হবে। তবে সাধারণ গ্রাহক ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য এই নিয়ম বাধ্যতামূলক হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন কৃষকরা। কৃষি পাম্প সেটের ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে এই ট্রু-আপ চার্জ আদায় করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মোট অনুমোদিত ট্রু-আপ চার্জের পরিমাণ ছিল ৭,৬৩৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে ২,২১৪ কোটি টাকা সরাসরি কৃষি পাম্প সেটের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেহেতু কৃষিক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়, তাই সেই বাড়তি অর্থের বোঝা কৃষকদের ওপর চাপানো হচ্ছে না। মূলত বিদ্যুৎ ক্রয়মূল্য বৃদ্ধি এবং আনুষঙ্গিক রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের সামগ্রিক ব্যয় অনেকখানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর সেই বর্ধিত ব্যয়ের ফারাক মেটাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কমিশন। এককথায়, শীতে বিদ্যুৎ বিলের পারদ যে মধ্যবিত্তের চিন্তা আরও বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।