নেপালে ফের মহাপ্রলয়ের আশঙ্কা! উপচে পড়ছে প্রাকৃতিক হ্রদ, ২০ মিনিটের মধ্যে বড় বিপদের চরম সতর্কতা!

নেপালে ফের একবার ভয়ংকর হড়পা বানের কালো ছায়া নেমে এসেছে। উজানে বাঁধের মতো আটকে থাকা একটি বিশাল প্রাকৃতিক হ্রদের জল উপচে পড়তে শুরু করার খবর পাওয়ার পরই বন্যাদুর্গত রাসুয়া জেলায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সমস্ত উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের অবিলম্বে উঁচু ও নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এদিকে চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে যে, তিব্বত-সংলগ্ন চিনের সিচুয়ান প্রদেশের কিছু অংশে ৫.১ মাত্রার একটি মাঝারি মানের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। নেপাল ও তিব্বতের সংবেদনশীল অঞ্চলে আগের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ক্ষত ও নিখোঁজদের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে এই বন্যার আশঙ্কা এবং পরপর প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

নুয়াকোট জেলার ধুন্ডে বাজার ও তার সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে আকস্মিক বন্যার চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে নদীর তীরবর্তী বিপদসঙ্কুল এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয় প্রশাসনের জোরালো আশঙ্কা, উজান থেকে বিপুল পরিমাণ জল তীব্র বেগে নেমে এলে আগামী মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যেই ধুন্ডে বাজার ও পার্শ্ববর্তী নিচু এলাকায় বন্যার জল পৌঁছে যেতে পারে। ফলে কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে বাসিন্দাদের দ্রুত নিজেদের বাড়িঘর খালি করে উঁচু স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধুন্ডে বাজারের অলিগলিতে পুলিশ ও প্রশাসনের বিশেষ দল মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের অবিরাম সতর্ক করে চলেছে। নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী প্রতিটি মানুষকে দ্রুত এলাকা ফাঁকা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্য গাফিলতিও বড় ধরনের মানবীয় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

পুলিশের জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, “তিব্বত অংশে থাকা জলাধারের বাঁধটি আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জলের স্তর পুনরায় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার খবর মিলেছে। তাই উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত সকল নিরাপত্তা কর্মী, উদ্ধারকারী দল এবং সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকতে, নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং আশপাশের মানুষকেও এই বিপদ সম্পর্কে অবহিত করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।”

স্থানীয় প্রশাসনের মতে, সম্ভাব্য এই নতুন বন্যা অতীতের সমস্ত ভয়াবহতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাই পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার অপেক্ষা না করে প্রশাসনের তরফ থেকে সর্বাত্মক ও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাসুয়া জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তা নরেন্দ্র পরিয়ার শুক্রবার জানিয়েছেন, ওই এলাকায় প্রথম আকস্মিক বন্যা আঘাত হানার দুদিন পর তাঁরা জানতে পেরেছেন যে উজান অঞ্চলের একটি হ্রদের পাড় ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, “আমরা নদীর জলের স্তর অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেখছি, তবে বর্তমান জলের সঠিক উচ্চতা বা গতিবেগ ঠিক কতটা, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।”

এদিকে, চিনও তাদের অংশে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ তৎপরতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে। তিব্বত ও সংলগ্ন অঞ্চলে নতুন করে বন্যার অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনার দুদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, নেপালের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের নিকটবর্তী অঞ্চলে একটি বিশাল আকারের ‘ব্যারিয়ার লেক’ বা প্রাকৃতিক বাঁধের ফলে সৃষ্ট হ্রদ তৈরি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ হ্রদটির মোট আয়তন আনুমানিক ২০ লাখ ঘনমিটারে পৌঁছায় এবং এটি ইতিমধ্যেই উপচে পড়তে শুরু করায় হিমালয়ের পাদদেশের এই গোটা অঞ্চল এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।