‘নেতারা গ্রেফতার হলেও আন্দোলন থামবে না!’ ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাক দিয়ে হুংকার নেহা বোরার

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ নিবিড় কর্মসূচি (SIR) বাতিলের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভের ঠিক আগের দিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শনিবারে এই আন্দোলন ঠেকাতে প্রশাসন যখন ব্যাপক কড়াকড়ি শুরু করেছে এবং আয়োজকদের খুঁজছে, ঠিক তখনই পিছু হঠতে নারাজ বামছাত্র সংগঠন ‘আইসা’ (AISA)। সংগঠনের সভানেত্রী নেহা বোরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নেতাদের গ্রেফতার করা হলেও আন্দোলন কোনোভাবেই থামানো যাবে না।

শুক্রবার এক বার্তায় নেহা বোরা অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ বানচাল করতে দেশজুড়ে একপ্রকার অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দিল্লিগামী ট্রেন আটকে দেওয়া, ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ রাখা এবং বিপুল পরিমাণে আধা-সামরিক বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েনের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৪২ সালের ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’-এর সঙ্গে তুলনা করে নেত্রী বলেন, “ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ইংরেজরা নেতাদের গ্রেফতার করেও আন্দোলন আটকাতে পারেনি, আজও কেউ এই গণআন্দোলন থামাতে পারবে না।”

দিল্লিগামী প্রতিবাদী মানুষের উদ্দেশ্যে নেহার স্পষ্ট আহ্বান, পুলিশ বা প্রশাসন যেখানেই বাধা দিক না কেন—তা মেট্রো স্টেশন হোক বা রেলওয়ে স্টেশন—ঠিক সেখানেই বসে পড়ে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করতে হবে। আয়োজক বা প্রধান নেতাদের আটক করা হলে সাধারণ মানুষকে নিজেই নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে নেহা আরও বলেন, “পিছিয়ে আসার আর কোনো পথ নেই। এই লড়াই এখন আর শুধু নীতিগত নয়, এটি সরাসরি বিজেপি বনাম সাধারণ জনগণের লড়াই।” উল্লেখ্য, শনিবারে যন্তর মন্তরে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকর্মী ও কৃষক সংগঠনগুলিরও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে শনিবারের দিল্লি দোরগোড়ায় এক বিরাট রাজনৈতিক সংঘাতের সাক্ষী থাকতে চলেছে।