নেতানিয়াহুর দিন শেষ! ইজরায়েলের ক্ষমতার পালাবদলে হঠাৎ কোন ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিল দেশের আরব নাগরিকরা?

আমেরিকায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক পরাজয়ের ঢেউ সরাসরি গিয়ে আছড়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে। ইজরায়েলের রাজনীতিতে ঘটতে চলেছে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন, যার জেরে এবার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গদি হাতছাড়া হওয়া প্রায় নিশ্চিত। এই পুরো রাজনৈতিক পালাবদলে সবথেকে বড় এবং নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছেন ইজরায়েলের অভ্যন্তরে বসবাসকারী প্রায় ২০ শতাংশ আরব নাগরিক। বিগত কয়েক দশক ধরে যাঁরা রাজনীতির মূলস্রোতে সেভাবে সক্রিয় ছিলেন না, তাঁদের ঐতিহাসিক ভোটদানের হারই এবার ওলটপালট করে দিল তেলআবিবের ক্ষমতার সমীকরণ।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইজরায়েলের সংসদে মোট ১২০টি আসন রয়েছে। সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার হলো ৬১টি আসন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, গাদি আইজেনকোটের শিবির পেয়েছে ৪৮টি আসন এবং আরব দলগুলি জিতেছে ১৯টি আসন। অর্থাৎ, কোনো একক শিবিরই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অতীতে হামাসের সঙ্গে সংঘাতের জেরে ইহুদি দলগুলি আরব দলগুলির সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করলেও, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আমেরিকায় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অবস্থান এবং নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের সমর্থকরা বিরক্ত হওয়ায় ইহুদি দলগুলি বুঝতে পেরেছে যে নেতানিয়াহুকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ফলস্বরূপ, গাদি আইজেনকোটের ৪৮টি আসনের সঙ্গে আরব দলগুলির ১৯টি আসন মিলে মোট ৬৭ জন সাংসদের সমর্থনে সরকার গঠনের জোরালো পথ তৈরি হয়েছে।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এই আরব ভোটাররা আসলে কারা? গাজা বা পশ্চিম তীরের বাসিন্দারা ইজরায়েলের নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলেও, যাঁরা ভোট দিয়েছেন তাঁরা হলেন খোদ ইজরায়েলের নাগরিক। ১৯৪৭-৪৮ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে যখন আরব দেশগুলি নতুন ইজরায়েল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শাণিয়েছিল এবং পরবর্তীতে যুদ্ধের পর প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ আরব বাস্তুচ্যুত হন, তখনও প্রায় দেড় লক্ষ আরব ইজরায়েলের ভেতরেই রয়ে গিয়েছিলেন। ইজরায়েল সরকার তাঁদের নাগরিকত্ব প্রদান করে। দীর্ঘকাল ধরে এই আরব জনগোষ্ঠী নির্বাচনে খুব একটা উৎসাহ দেখাত না এবং মাত্র ৪০ শতাংশের কম মানুষ ভোট দিতেন। কিন্তু নেতানিয়াহু সরকারের অতি-ডানপন্থী নীতি এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবার রেকর্ড ভেঙে প্রায় ৮০ শতাংশ আরব নাগরিক বুথমুখী হয়েছেন। আর তাঁদের এই ভোটদানের জোয়ারেই ১৯টি আসন জিতে ইতিহাস গড়েছে আরব দলগুলি, যা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক সাম্রাজ্যের অবসান ঘটাতে চূড়ান্ত ভূমিকা নিয়েছে।