‘নীল ড্রামে’ সিমেন্টবন্দি করে মার্চেন্ট নেভি অফিসার খুন! যুগলকে ফাঁসির সাজা শোনাল আদালত

দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলে দেওয়া উত্তরপ্রদেশের আলোচিত মীরাট ‘নীল ড্রাম’ (Blue Drum Murder Case) হত্যাকাণ্ডে এল চূড়ান্ত রায়। মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে নৃশংসভাবে খুন করে তাঁর মরদেহ নীল প্লাস্টিকের ড্রামে সিমেন্টবন্দি করে লুকিয়ে রাখার অপরাধে অভিযুক্ত স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি এবং তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনাল মীরাট জেলা আদালত। মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণার পরই আদালত চত্বরজুড়ে উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

রায়দান ঘিরে এজলাসে কী হলো? আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কারাগার থেকেই বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল অভিযুক্ত মুসকান ও সাহিল। অন্যদিকে, বিচার চলাকালীন মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে বিচারক পর্যবেক্ষণে জানান যে, সঠিক শাস্তিও ধর্মেরই এক রূপ। এরপরই দুই অভিযুক্তের ফাঁসির সাজা ঘোষণা করা হলে আদালতের অন্দরে ও বাইরে উপস্থিত মানুষের একাংশ ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনি দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন।

কীভাবে ফাঁসির সাজা পর্যন্ত পৌঁছাল মামলা? গত ৩০ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে চলা বিচারপর্ব এবং মোট ১২৬টি শুনানির পর আদালত মুসকান ও সাহিলকে সৌরভের খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করেছিল। এরপর সাজা ঘোষণা (Quantum of Sentence)-র ওপর সওয়াল-জবাবের জন্য ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়। অপরাধের অত্যন্ত নৃশংস প্রকৃতি এবং ট্রায়াল চলাকালীন সংগৃহীত অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে সরকারি আইনজীবী আদালতের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তির জোরালো আর্জি জানান।

মামলার সরকারি কৌঁসুলি কৃষ্ণ কুমার চৌবে জানান, সুপ্রিম কোর্টের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের কথা মাথায় রেখে এই ধরনের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ট্রায়াল চলাকালীন মোট ২২ জন সাক্ষীকে আদালতে পেশ করা হয়। যে দোকানগুলি থেকে নীল ড্রাম, সিমেন্ট ও ধারালো অস্ত্র কেনা হয়েছিল, সেই দোকানদারদের পাশাপাশি অভিযুক্তরা অপরাধের পরে যে সমস্ত হোটেলে আত্মগোপন করেছিল, সেখানকার ম্যানেজার এবং ক্যাব চালকদেরও সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছিল।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে? মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুত হত্যাকাণ্ডের এই লোমহর্ষক ঘটনাটি প্রথম থেকেই গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এহেন নৃশংস পরিণতি নেমে এসেছিল এক তরতাজা যুবকের জীবনে। অবশেষে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে এই চাঞ্চল্যকর মামলার ঐতিহাসিক রায়ে অভিযুক্তদের ফাঁসির সাজা নিশ্চিত হলো।