নীতীশ কুমার নন! দেশের নতুন উপরাষ্ট্রপতি হবেন প্রবীণ বিজেপি নেতা, এমনটাই রিপোর্ট

উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক পদত্যাগ ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তিনি ইস্তফার কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতাকে তুলে ধরলেও, এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির শীর্ষ সূত্র এনডিটিভি-কে জানিয়েছে, পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার তালিকায় বিজেপির একজন প্রবীণ নেতাই এগিয়ে রয়েছেন।
জগদীপ ধনখড়ের পদত্যাগের পর উপরাষ্ট্রপতির শূন্য পদে বিজেপি জোট শরিক জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাউকে বিবেচনা করতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছিল। কিন্তু বিজেপির শীর্ষ সূত্র এই জল্পনাকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, “উপরাষ্ট্রপতি হবেন দলের আদর্শের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এমন কোনো ব্যক্তি।”
সম্প্রতি জেডিইউ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামনাথ ঠাকুর এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডার মধ্যে একটি বৈঠকের পর এই জল্পনা আরও বেড়েছিল। তবে বিজেপি সূত্র জানিয়েছে, এটি একটি নিয়মিত বৈঠক ছিল এবং জেডিইউ নেতৃত্বের সঙ্গে উপরাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানিয়েছে, সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। ইতিমধ্যেই ইলেক্টোরাল কলেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, যেখানে রাজ্যসভা ও লোকসভার নির্বাচিত এবং মনোনীত সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। রিটার্নিং অফিসারদের চূড়ান্তকরণ এবং অতীতের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তথ্য সংগ্রহ করার কাজও চলছে।
সরকারি সূত্র মারফত জানা গেছে, জগদীপ ধনখড় উপরাষ্ট্রপতি থাকাকালীন বেশ কিছু ক্ষেত্রে ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছেন, যা তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলির অভিশংসন প্রস্তাব গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত ছিল একটি বড় কারণ। এছাড়া, বিরোধী দলের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের সময় ধনখড় বিরোধী নেতাদের বেশি কথা বলার সুযোগ দিয়েছিলেন বলে সরকার মনে করেছিল। কৃষকদের বিষয়ে তাঁর অবস্থান, বিশেষ করে একটি জনসভায় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের কাছে তাঁর প্রশ্ন, ভালো চোখে দেখা হয়নি।
সরকারি সূত্রের দাবি, ধনখড় যদি নিজে ইস্তফা না দিতেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। এই সমস্ত কারণে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে কেবল শারীরিক অসুস্থতা বলে মনে করা হচ্ছে না, বরং রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্কের ফল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।