নির্বাচনে লড়ব না, সোজা মুখ্যমন্ত্রী হব! অখিলেশের এই ঘোষণাকে ‘ভয়াতুর পলায়ন’ বলে চরম কটাক্ষ চিরাগ পাসওয়ানের

আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান। একদিকে যখন রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের কৌশল তৈরিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই সমাজবাদী পার্টির (SP) প্রধান অখিলেশ যাদবের একটি ঘোষণা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। অখিলেশ ঘোষণা করেছেন যে তিনি নিজে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না এবং সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই কড়া ভাষায় তোপ দেগেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-এর প্রধান চিরাগ পাসওয়ান।

১. “সেনাপতি প্রাসাদ থেকে যুদ্ধ দেখছেন!”— অখিলেশকে কটাক্ষ চিরাগের

বড়ায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবের নির্বাচনে না লড়ার সিদ্ধান্তকে সরাসরি আক্রমণ করেন। বিষয়টিকে ‘অদ্ভুত ও অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে চিরাগ বলেন, “একজন সেনাপতি কখনো যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে প্রাসাদে বসে যুদ্ধ পরিচালনা করেন না, তাঁকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হয়। অখিলেশজির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার এই সিদ্ধান্ত পরিষ্কার বুঝিয়ে দেয় যে তিনি হারকে ভয় পাচ্ছেন।”

২. পরাজয়ের আশঙ্কা এবং মহারাষ্ট্রের ছায়া

অখিলেশ যাদবের এই সিদ্ধান্তের পেছনে গভীর রাজনৈতিক শঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেছেন চিরাগ পাসওয়ানি। তাঁর মতে, লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী দলগুলি সংবিধান বা সংরক্ষণের মতো বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সাময়িক সুবিধা পেলেও, সাধারণ মানুষ আসল সত্য বুঝে গেছে। মহারাষ্ট্রের বিধানসভা ভোটের মতোই উত্তরপ্রদেশের জনতাও যে লোকসভা ও বিধানসভার রাজনীতিকে আলাদা করে দেখে এনডিএ-র পক্ষেই রায় দেবে, সেই ভয়েই আজ পিছিয়ে আসছেন সপা প্রধান।

৩. জোট না হলে উত্তরপ্রদেশের ৪০৩টি আসনেই লড়বে LJP!

আসন্ন উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন ঘিরে আসন সমঝোতা ও রাজনৈতিক জোটের সম্ভাবনা নিয়েও বড় বার্তা দিয়েছেন চিরাগ পাসওয়ান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত জোট আলোচনা শুরু হয়নি। যদি আগামী দিনে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে কোনো সম্মানজনক জোট গঠিত না হয়, তবে তাঁদের দল এলজেপি (রামবিলাস) একাই উত্তরপ্রদেশের সমস্ত অর্থাৎ ৪০৩টি আসনেই এককভাবে প্রার্থী দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। নির্বাচনের আগে চিরাগের এই হুংকার রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।