চেয়ারে বেঁধে গায়ে পেট্রোল ঢেলে স্ত্রীকে জীবন্ত পুড়াল স্বামী! ১১ বছরের প্রেমের পরিণীত দেখে শিউরে উঠল দেশ

প্রেম করে বিয়ে, সুখের সংসার এবং দুটি ফুটফুটে সন্তান— সবকিছুর পরেও সন্দেহের বশে এক বিভীষিকাময় অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল উত্তর প্রদেশের কনৌজ জেলা। পরকীয়ার সন্দেহের জেরে দিওয়ালির ছুটিতে বাড়ি ফিরে নিজের স্ত্রীকে চেয়ারে বেঁধে গায়ে পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ও তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

১. ১৪ বছরের পরিচয় ও ১১ বছরের প্রেমের বিয়ে

জানা গেছে, অভিযুক্ত স্বামী সুখবীর সিং ওরফে মনু (৩৫) বিগত প্রায় ১৪ বছর ধরে হরিয়ানার হিসারের একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। সেখানেই শিকোহাবাদের বাসিন্দা সোনমের (৩২) সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। দীর্ঘ মেলামেশার পর সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয় এবং প্রায় ১১ বছর আগে তাঁরা পরিবারের অমতেই হোক বা নিজেদের সিদ্ধান্তে গাঁটছড়া বাঁধেন। এই দম্পতির সংসারে সাত বছরের একটি ছেলে এবং পাঁচ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বিয়ের প্রথম কয়েক বছর সবকিছু ঠিকঠাক চললেও বিগত চার বছর ধরে তাঁদের পারিবারিক জীবনে অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, সোনমের চরিত্র ও পরকীয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই তীব্র অশান্তি ও কথাকাটাকাটি হতো।

২. দিওয়ালির ছুটিতে বাড়ি ফিরে যে নৃশংসতা চালালো সুখবীর

ঘটনার দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে এই মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটে। ছিব্রামাউ থানা এলাকার জগৎপুর গ্রামের বাড়িতে দিওয়ালির ছুটি কাটাতে দুদিন আগেই ফিরেছিলেন সুখবীর। সোনমের চরিত্র নিয়ে তাঁর মনে চলা সন্দেহ দিন দিন চরমে পৌঁছায়। এমনকি বিষয়টি সিকান্দারপুর থান পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পেট্রোল ভর্তি একটি ক্যান নিয়ে ঘরে ফেরে সুখবীর। এরপর কোনও কথা না বলে সে তাঁর স্ত্রী সোনমকে একটি চেয়ারের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যে তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় সে। ঘরের ভেতর থেকে আর্তনাদ ও দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে খবর দেন। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ! আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই করুণ মৃত্যু হয় সোনমের। নৃশংস এই কাণ্ড ঘটিয়ে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যায় পাষণ্ড স্বামী।

৩. মায়ের আকুল আর্তনাদ ও পুলিশের তদন্ত

মৃতার মায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই সুখবীর তাঁকে ফোন করে মেয়ে সোনমকে নিজের বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে এবং হুমকি দেয় যে সে বাচ্চাদের নিজের কাছেই রাখবে। এরপরই পুলিশের মাধ্যমে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান তিনি।

ছিব্রামাউ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কপিল দুবের মতে, প্রাথমিক তদন্তে এটি স্পষ্ট যে স্ত্রীর চরিত্র ও পরকীয়ার সন্দেহের জেরেই এই খুন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছে। তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম তল্লাশি চালাচ্ছে। আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং প্রমাণ সংগ্রহ করে পুরো ঘটনার গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।