খালি পায়ে রাস্তায় খেলা থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের মসনদে! রোনালদোর আন্তর্জাতিক অবসর ও এক রূপকথার ইতি

এক রাজকীয় ও বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান ঘটে গেল ফুটবলের সবুজ গালিচায়। অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে আলবিদা জানালেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আজকের দিনেই (৫ নভেম্বর ২০২৬) আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিজের বুটজোড়া তুলে রাখার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই তারকা।
বিশ্বের অগণিত রেকর্ডের মালিক এবং বিশ্বের সর্বাধিক উপার্জনের ক্রীড়াবিদ হিসেবে আজ তিনি পরিচিত হলেও, এই মহাতারকা হয়ে ওঠার পেছনের গল্পটি যেকোনো রূপকথাকেও হার মানায়।
১. চরম দারিদ্র্য, অনাহার ও খালি পায়ে শৈশব
আজ যিনি বিলাসবহুল গাড়ি, প্রাইভেট জেট এবং হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক, সেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শৈশব কেটেছিল চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে। পর্তুগালের কাঠেরা দ্বীপে বড় হওয়া রোনালদোর মা অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন এবং বাবা ছিলেন একজন সাধারণ মালী।
ছোটবেলায় পায়ে পরার মতো এক জোড়া ভালো জুতো ছিল না তাঁর, এমনকি অনেক দিন দু’বেলা পেট পুরে খাবারও জুটত না। ভাঙাচোরা রাস্তায় খালি পায়ে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার সূচনা হয়েছিল ছোট ‘ক্রিস’-এর।
২. অদম্য জেদ ও বিশ্ব রেকর্ডের পাহাড়
দারিদ্র্য ও পারিবারিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নে কোনোদিন ভাঁটা পড়তে দেননি রোনালদো। মাত্র ১২ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে লিসবনে পাড়ি জমান অনুশীলনের জন্য। এরপর কঠোর পরিশ্রম, অমানুষিক মানসিক শক্তি এবং অদম্য জেদের ওপর ভর করে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছান তিনি।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং ইউভেন্তুসের হয়ে একের পর এক ট্রফি জেতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার বিশ্ব রেকর্ড গড়েন তিনি। ২০১৬ সালে পর্তুগালকে ইউরো কাপ এবং ২০১৯ সালে নেশনস লিগ জেতানো তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য।
৩. সর্বকালের অন্যতম সেরা অনুপ্রেরণা ‘CR7’
আজ শুধু ফুটবলপ্রেমীরাই নন, বরং বিরাট কোহলির মতো আধুনিক বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াবিদরাও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিজেদের আইডল বা অনুপ্রেরণা হিসেবে মানেন। শূন্য থেকে কীভাবে একজন মানুষ নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে পৃথিবীর বুকে অমরত্ব অর্জন করতে পারেন, ‘CR7’ বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জীবনকাহিনী ইতিহাসে চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।