‘নিজের সন্তানের নাম কেউ বিভীষণ রাখে না!’ বিজেপির নিজের সভাতেই তুমুল মারামারি, ফাঁস বিস্ফোরক পোস্ট!

উত্তর প্রদেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নতুন আইনকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে চলা বিক্ষোভের আঁচ এবার শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্দরেই ছড়িয়ে পড়েছে। উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্যের এক প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে ইউজিসি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় দুই যুবকের ওপর শারীরিক হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রয়াগরাজ উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক হর্ষ বর্ধন বাজপেয়ী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইউজিসি-র বিরোধিতা করা প্রতিটি ব্রাহ্মণ ও উচ্চবর্ণের মানুষের সাংবিধানিক ও সামাজিক অধিকার।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার প্রয়াগরাজের প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘প্রবুদ্ধ ব্রাহ্মণ সম্মেলন’-এ। সেই সভায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য যখন মাঘ মেলার প্রস্তুতি ও সরকারের সাফল্য তুলে ধরছিলেন, ঠিক তখনই মঞ্চের কাছে থাকা ডি-এলাকা থেকে দুজন যুবক উঠে দাঁড়িয়ে ইউজিসি আইনের বিষয়ে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য দাবি করেন। এতেই সেখানে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। পুলিশ তাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিজেও ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের চুপ করতে বলেন।

আসল নাটকের শুরু হয় সভা প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশ যখন দুই যুবককে বের করে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন আল্লাহপুরের বিজেপি কাউন্সিলর বিনয় মিশ্র তাঁদের প্রশ্ন করতে শুরু করেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই যুবকদের একজন জানান যে তিনি বিজেপিরই একজন কর্মী, তাই নিজের নেতার কাছে প্রশ্ন করছেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে কাউন্সিলর বিনয় মিশ্র এক যুবককে সজোরে চড় মারেন। পরবর্তীতে সেই চড় মারার ভিডিও সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে ওঠে।

নিজের দলের কাউন্সিলর কর্তৃক নিজ সম্প্রদায়ের যুবকদের এভাবে মারধরের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি বিধায়ক হর্ষ বর্ধন বাজপেয়ী। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিস্ফোরক বার্তায় তিনি লেখেন, “ইউজিসি-র বিরোধিতা করা প্রত্যেক ব্রাহ্মণ ও উচ্চবর্ণের অধিকার। যারা গতকাল নিজেদের শক্তি দেখানোর জন্য নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হিংসা চালিয়েছে, তাদের মনে রাখা উচিত যে কেউ নিজের সন্তানের নাম বিভীষণ রাখে না।” এই ঘটনার পর প্রয়াগরাজ তথা পুরো উত্তর প্রদেশে বিজেপির মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও উচ্চবর্ণের ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে।