নিয়োগ দুর্নীতিতে বড় মোচড়! সিবিআইয়ের SIT ভাঙার আর্জি খারিজ করে সুপ্রিম কোর্টের পথ বাতলে দিল হাইকোর্ট

নিয়োগ দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও আইনি মহলে ফের এক নতুন চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী সিবিআই যে বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT) গঠন করেছিল, তা ভেঙে দেওয়ার আবেদন নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার একক বেঞ্চ সিবিআই-এর সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে এবং মামলাটি তালিকা থেকে ডিলিস্ট (Delist) বা বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সিবিআইকে স্পষ্ট ভাষায় সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে আদালত।
এদিনের শুনানিতে সিবিআই-এর আইনজীবী তথা কেন্দ্রের অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল ধীরজ ত্রিবেদী আদালতকে জানান যে, গত পাঁচ বছর ধরে তদন্ত চলাকালীন এই সিটের বহু অফিসার ইতিমধ্যে অবসর নিয়েছেন বা শীঘ্রই অবসর নেবেন। তাই শূন্যপদে নতুন অফিসারদের রিলিজ ও সমন্বয় সাধনের স্বার্থে এই সিট ভেঙে দেওয়া প্রয়োজন। এই যুক্তি শোনার পরই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “তাহলে এই তদন্তের ভবিষ্যৎ কী? তদন্তে এ পর্যন্ত ঠিক কী উঠে এসেছে? এতদিন আপনারা ঠিক কীসের তদন্ত করছিলেন?”
আদালতের এই প্রশ্নের মুখে পড়ে সিবিআই। অন্যদিকে, মামলাকারীদের প্রধান আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত আদালতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেন যে, সিবিআই কার্যত কোনো কার্যকর পদক্ষেপই করেনি। অপর প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, সিবিআই যেভাবে এসআইটি ভেঙে দিতে চাইছে, তা অত্যন্ত গুরুতর এবং উদ্বেগজনক বিষয়। মামলাকারীদের আরেক আইনজীবী ফিরদৌস শামিম যুক্তি দেন যে, সিট ভেঙে দেওয়া হলে তা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে অমান্য করার শামিল হবে। এছাড়া, চাকরিপ্রার্থী সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ইডিকে পাঠানো একটি চাঞ্চল্যকর চিঠিও এদিন আদালতের হাতে তুলে দেন আইনজীবীরা।
উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা উল্লেখ করেন যে, সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে এই পুরো প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। ফলে হাইকোর্ট এই বিষয়ে কী করতে পারে? সিবিআইয়ের আইনজীবী তখন জানান যে, তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের মূল মামলার পার্টি ছিলেন না। সমস্ত জল্পনা ও যুক্তির অবসান ঘটিয়ে বিচারপতি অমৃতা সিনহা সিবিআই-এর এসআইটি ভাঙার এই আবেদন সংক্রান্ত মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টের কার্যতালিকা বা কজলিস্ট থেকে ডিলিস্ট করে দেন। তবে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে আদালতের স্পষ্ট পরামর্শ, তাঁরা যদি সত্যিই এই দল ভাঙতে চায়, তবে তাদের সুপ্রিম কোর্টেই নির্দিষ্ট আইনি আবেদন করতে হবে।